মস্তিষ্ক
বিকৃতির অজুহাতে রাহেনা বেগম (৪০) নামে দুই সন্তানের জননীর পায়ে শিকল
বেঁধে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে। শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার
উত্তর-পশ্চিম কোণে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের
নিভৃত পল্লী সোনাপুকুর ভাটিপাড়া গ্রামে এ অমানবিক দৃশ্য দেখা গেছে। এ
গ্রামের বৃদ্ধ আলা বকস (৬০) এর স্ত্রী মজিদা খাতুন দুই ছেলে ও দুই মেয়ে
রেখে অনেক আগে মারা গেছেন। সকলের বড় রাহেনা বেগম, ভাই আ. মজিদ (৪০) ও আ.
রশীদ (৩৫) কর্মজীবি ও ছোট বোন এলিজা বেগম (২৫) গৃহিনী। প্রায় ২৫ বছর আগে
মনমথপুর ইউনিয়নের দেগলাগঞ্জ গ্রামে জনৈক জমির উদ্দিনের সাথে রাহেনার বিয়ে
হয়েছিল। সেখানে তার আতিকুল (২৪) ও সাদেকুল (১৮) নামে তার দুই ছেলে রয়েছে।
ওরা ভ্যান চালায়। তবে ৭ বছর আগে রাহেনার স্বামী মারা গেলে সংসার ভেঙ্গে
যায়। পারিবারিক অশান্তিতে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয় সে। নিরুপায় হয়ে রাহেনা
বাবার বাড়ীতে ঠাঁই নেয়। স্বামী না থাকায় ছেলেরাও খোঁজ নেয়না। চিকিৎসা না
করে গরু ছাগলের গোয়াল ঘরের চেয়েও নোংরা স্যাঁত স্যাঁতে অস্বাস্থ্যকর স্থানে
শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে রাহেনাকে। দুই জা ও ভাইয়েরা জানায়, সে সব সময়
বিড়বিড় করে আপন মনে কথা বলে, ছেড়ে দিলে লোকদের উপর চড়াও হয় ও ভাংচুর করে। এ
জন্য তাকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। পিতা আলা বকস বলেন, অর্থাভাবে
মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারি নাই। শীত-গ্রীষ্ম-ঝড়বৃষ্টি সব গেছে তার উপর দিয়ে।
এ অবস্থায় গোসল, খাওয়া, প্রসাব পায়খানা সব সারতে হয়। আর এভাবেই কেটেছে ৫টি
বছর। প্রতিবেশীরা কেউ তার সামনে গেলে ছটফট করে ও পায়ের শিকল খুলে দেয়ার
আকুতি ও কান্নাকাটি করে রেহানা। তবে চিড়িয়াখানার বন্দি জীব জানোয়ারের মত
তামাশা দেখে তারা চলে যায়। এরপরও কারো হৃদয়ে দয়া হয়নি। তার পাশে গিয়ে
দাঁড়ায়নি। সাংবাদিকরা কথা বলার সময়ে তার মধ্যে কোন জড়তা লক্ষ্য করা যায়নি।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা ও সেবা
শুশ্রুষায় মেয়েটি সুস্থ্য হতে পারে।
>>>মানবজমিন

No comments:
Post a Comment