সপ্তাহব্যাপী
সাড়া জাগানো আয়কর মেলা সোমবার শেষ হয়েছে। এবার অফিসার্স ক্লাবের পরিবর্তে
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিজস্ব ভবনে আয়কর মেলা
অনুষ্ঠিত হয়। স্থান পরিবর্তনের কারণে করদাতাদের উপস্থিতি কমার আশংকা থাকলেও
সেটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা
দিয়েছেন মেলায়। অনেক করদাতা মেলার সময় বাড়ানোর আবেদন জানালেও এনবিআর সেটি
নাকচ করে দিয়ে বলেছে, ২৪ থেকে ৩০ অক্টোবর কর অঞ্চলগুলোতে আয়কর সপ্তাহ
উদযাপিত হবে। সেখানে করদাতারা মেলার পরিবেশে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এবার বিভাগীয় শহরে ৭ দিন, অন্য সব জেলা শহরে ৪ দিন, ২৯ উপজেলায় ২ দিন এবং
৫৭ উপজেলায় ১ দিনের ভ্রাম্যমাণ আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় আয়কর
রিটার্ন দাখিল, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড, নতুন
ও পুরনো ই-টিআইএন গ্রহণ, কর সংক্রান্ত সব সেবা দেয়া হয়েছে করদাতাদের।
ঢাকার আয়কর আয়তন ছিল ৬২ হাজার বর্গফুট। মেলায় বুথ ছিল ১০৯টি।
আয়কর রিটার্ন
ফরম পূরণ ও কর পরিশোধের জন্য ২৩টি হেল্প ডেস্ক রাখা হয়। মেলায় আসা
মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ছিল আলাদা বুথ।
করদাতাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, বেইলি রোড,
মিরপুর-২ ও উত্তরা থেকে ৮টি শাটল বাস সার্ভিস ছিল এবারের মেলার অন্যতম
আকর্ষণ। অন্যদিকে করদাতাদের সুবিধার্থে আয়কর মেলায় ই-ফাইলিংয়ের ইউজার আইডি ও
পাসওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। আয়কর মেলায় সাধারণ করদাতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।
সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন এবং মেলার শেষের দিন। স্থান
সংকুলান না হওয়ায় শেষদিন করদাতাদের ফ্লোরে বসে রিটার্ন ফরম পূরণ করতে দেখা
গেছে। ব্যাংকের বুথেও ছিল লম্বা লাইন। রিটার্ন ফরম জমা দিয়ে অনেকে ঘণ্টার
পর ঘণ্টা বসে ছিলেন প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিতে। কয়েকজন করদাতার সঙ্গে কথা
বলে জানা গেছে, ঝামেলা ছাড়াই রিটার্ন দিতে পারায় আয়কর মেলায় এসে রিটার্ন
জমা দিচ্ছেন তারা। সার্কেল অফিসে নানামুখী হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে মেলায়
ব্যাংকের বুথ বাড়ানোর পক্ষে মতপ্রকাশ করেন অনেক করদাতা। তাদের মতে, অল্প
সময়ের মধ্যে অনেক করদাতা হুড়াহুড়ি করে টাকা জমা দেয়ায় ঝামেলার সৃষ্টি
হয়েছে। আগামী মেলায় অন্য কোনো পদ্ধতিতে টাকা জমা দেয়ার ব্যবস্থা রাখা ও
নগরীর কর্মরত মানুষের জন্য মেলার সময় একটু বাড়িয়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার
পরামর্শ দিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment