মিয়ানমারের
রাখাইন রাজ্যে দমন অভিযানের মুখে শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।
গেল এক সপ্তাহে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে সক্ষম হন। যদিও বাংলাদেশে আসার
চেষ্টকালে তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে এরই মধ্যে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোহিঙ্গা নেতাদের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এসব তথ্য জানায়
বার্তা সংস্থা এএফপি। এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর
নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে সীমান্ত খোলা রাখার আহ্বান
জানায়। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে
গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তাদের রক্ষার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতিও আহ্বান
জানায় সংস্থাটি। বাংলাদেশ লাগোয়া মিয়ানমারের এ রাজ্যটিতে নতুন করে সহিংসতা
ছড়িয়ে পড়ার পর সামরিক অভিযানে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ জানায়,
রাখাইনে অস্থিরতার মধ্যে এরই মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত
হয়েছেন। তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ।
সীমান্তের ২৩৭ কিলোমিটার এলাকায় এরই মধ্যে অতিরিক্ত টহল জোরদার করেছে
বিজিবি।
গত বুধবার অতিরিক্ত তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য পাঠানো হয় টেকনাফ
সীমান্তে। বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত
এলাকার নেয়া হয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচি। বিজিবি জানায়,
সীমান্তের অপরিচিত স্থান দিয়ে রোহিঙ্গা প্রবেশের চেষ্টা করলেও তারা এসব
মানুষকে ফেরত পাঠাতে পেরেছে। ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের তিনটি সীমান্ত পোস্টে
‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ হামলায় ৯ সীমান্ত পুলিশের মৃত্যু হয়। এরপরই আশপাশের
এলাকাগুলোয় ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। রোহিঙ্গা নেতাদের কথায়, রাখাইনে
সাম্প্রতিক সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে
যেতে সক্ষম হয়েছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় কয়েক হাজার
শরণার্থী বসবাস করছেন। মোহাম্মদ আমিন নামে এক কিশোর এএফপিকে জানায়, আরও ১৫
জনের সঙ্গে পাঁচ দিন আগে সে রাখাইন থেকে নাফ নদী দিয়ে সাঁতার কেটে
বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। আমিন বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী আমার বাবা ও বড়
ভাইকে মেরে ফেলেছে। আতংকিত হয়ে আমি একটি পাহারে লুকিয়ে ছিলাম, তারপর ধীরে
ধীরে হেঁটে নাফ নদীর কাছে যাই এবং সাঁতার কেটে বাংলাদেশের একটি মসজিদে
আশ্রয় নিই।
তবে আমার মা ও বোনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানা নেই। কক্সবাজার
এলাকা থেকে এএফপির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মোহাম্মদ আমিন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আসাদুজ্জামান খান এর আগে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে এখন
অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় মিয়ানমারের কোনো নাগরিক যেন
সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবি,
কোস্টগার্ডসহ সব আইনশৃংখলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৬ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া দমন
অভিযানের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এরই মধ্যে ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন
এবং গ্রেফতার হয়েছেন অন্তত ৪০০ জন। তবে মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করেছেন,
রাখাইনে নির্যাতনের শিকার মানুসের সংখ্যা আরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, মিয়ানমারের
রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাড়িঘরে নির্বিচারে
অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। কয়েক দিনে প্রায় এক হাজার বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া
হয়েছে।

No comments:
Post a Comment