Tuesday, November 1, 2016

রবিবাসরীয় রজনীতে আনন্দবন্যা

মিরপুরে ইংল্যান্ড জয়ের পর গত পরশু হোটেলে ফিরতে বাংলাদেশ দলের বেশ রাত হয়ে যায়। বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের জন্মদিন ছিল রোববার। বাংলাদেশের জয়ে রবিবাসরীয় রজনী বর্ণিল হয়ে ওঠে। কাল সকালে খেলোয়াড়রা যখন টিম হোটেল ছাড়লেন তখনও তামিম ইকবাল-মেহেদী হাসান মিরাজদের মুখে হাসি লেগেই আছে। এ হাসি যেন ফুরাবার নয়। আগেরদিন রাতে দুটি কেক কাটার উৎসব করেছে বাংলাদেশ! ঐতিহাসিক জয়ের জন্য কেক কাটার পর নৈশভোজ শেষ হতেই গড়িয়ে যায় মধ্যরাত। এরপরও চলেছে জয়োৎসব। হোটেলে উচ্চস্বরে বেজেছে মিউজিক। ইংল্যান্ডকে তিনদিনে গুঁড়িয়ে না দিলে আজও হোটেলেই থাকতেন সাকিব-তামিমরা! কাল সকালে কয়েকজন ক্রীড়া সাংবাদিকের সঙ্গে নাশতা সেরেছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। ফুরফুরে মেজাজে সবাই এমন তাজা সকাল হয়তো কমই এসেছে ক্রিকেটারদের জীবনে। এরপর সবাই হোটেল ছেড়েছেন। ইংল্যান্ড-বধের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সরাসরি গেলেন মিরপুর একাডেমিতে। খুলনায় যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু বিপিএলে কিছু কাজ থাকায় সেটা আপাতত হচ্ছে না। জয়ের রাতের আনন্দ বর্ণনা করতে গিয়ে এই অফ-স্পিনার বলেন, ‘অসম্ভব সুন্দর একটা রাত কেটেছে আমাদের।
কাল আবার কোচ কোর্টনি ওয়ালশের জš§দিন ছিল। সব মিলিয়ে খুব ইনজয় করেছি।’ বাংলাদেশের বিস্ময় বালক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও মিরাজ খুব ভালো বন্ধু। গত বছর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছেন মুস্তাফিজ। এক বছর পর বন্ধু মিরাজও সুযোগ পেয়ে ইংল্যান্ড-বধের নায়ক হয়েছেন। এমন সাফল্যের পর মুস্তাফিজ কী বলেছেন জানতে চাইলে মিরাজ বলেন, ‘আমরা দু’জনে খুব ভালো বন্ধু। প্রায় সময়ই আমাদের কথা হয়। টেস্টে ভালো করার জন্য বলেছে। ভালো করেছিস। আমার ভালো লাগছে।’ তিনি বলেন, ‘বাড়িতে সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। বিপিএলে তার দল রাজশাহীর সঙ্গে কিছু কাজ বাকি। তাই বাড়ি যেতে পারবেন কীনা বুঝতে পারছেন না।’ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের টেস্ট জয়কে বাংলাদেশের সেরা জয় বলেছেন। সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবালও এই জয়টাকে অনেক বড় করে দেখছেন। হোটেল ছেড়ে যাওয়ার সময় তামিম বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকটি ভালো টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। এই জয়টাও আমাদের অন্য ভালো টেস্টগুলোর মধ্যে অন্যতম।’ জয়ের পার্শ্বচরিত্র সাকিব আল হাসানের স্যালুট নিয়ে দিনভর আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, সেটা বেন স্টোকসকে কেন্দ করেই। এর আগে স্টোকসের দিকে স্যালুট দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস। সাকিবও স্যামুয়েলসকে অনুকরণ করেছেন হয়তো। দলের অন্য সিনিয়র খেলোয়াড়দের মতো সাকিবের কাছেও এই জয় অনেক বড়। এদিকে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রেখেছেন ইমরুল কায়েস। এই জয়ে তিনিও উচ্ছ্বসিত। এই বাঁ-হাতি ওপেনার বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে হারাতে পেরেছি, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। আর যেভাবে দুটি টেস্টে আমরা প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছি, তাতে নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। এখন সেটা ধরে রাখাই হবে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’
মধ্যরাতে অভিনন্দন জানাতে এবং কেক কাটার জন্য টিম হোটেলে গিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। দলকে গণসংবর্ধনা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের জয়ের জন্য কৃতিত্ব দিলেন শিষ্যদের। কোচ বলেন, ‘ছেলেরা যা করেছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। এমন একটি জয়ে স্বস্তি না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আগেই বলেছি, হয়তো আরও অভিজ্ঞতা থাকলে ২-০ তেও জিততে পারতাম আমরা।’ দ্বিতীয় টেস্টে ডাক পেয়েও একাদশে সুযোগ পাননি মোসাদ্দেক হোসেন। ইংল্যান্ড-বধের দলে থাকতে পেরেই খুশি তিনি। হোটেল থেকে বেরোনোর সময় মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমি একাদশে ছিলাম না। কিন্তু দলে তো ছিলাম। এটা ভেবেই আমি তৃপ্ত। ড্রেসিংরুমে বসে অসাধারণ একটি জয় দেখা ভাগ্যের ব্যাপার। জয়টা আমার স্মৃতিতে তোলা থাকবে।’ এই টেস্ট জয়ে একাদশের প্রায় সবারই অবদান রয়েছে। শুভাগত হোমও ভালো করেছেন। মিরপুরে দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ২৫ রান করেছেন, উইকেট না পেলেও বল হাতে চাপ সৃষ্টি করেছেন তিনি। মুশফিক থেকে মোসাদ্দেকÑ সবাই টেস্ট জয়ের স্বস্তি নিয়েই হোটেল ছেড়েছেন।

No comments:

Post a Comment