Saturday, November 26, 2016

মিট রমনি না জুলিয়ানি বিভক্ত রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ নিয়ে দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে রিপাবলিকান দল। এ পদটিতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিতর্ক দেখা দিয়েছে মিট রমনি নাকি রুডি জুলিয়ানি- কাকে নিয়োগ দেয়া হবে, এ নিয়ে। ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টাদের মধ্যে একদল চান মিট রমনি হোক যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যদিকে রুডি জুলিয়ানিকে চান আরেক দল। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানি কট্টরপন্থী, আইনশৃংখলার প্রতি কঠোর শ্রদ্ধাশীল ও অনমনীয় মনোভাবের বলেই পরিচিত। অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটসের সাবেক গভর্নর মিট রমনি কট্টর রুশবিরোধী হিসেবেই বেশ পরিচিত। ট্র্রাম্পের কট্টর সমালোচকও তিনি। মার্কিন নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর ছিলেন রমনি। সে সময় তিনি ট্রাম্পকে ‘প্রতারক’ বলেছিলেন। এ কারণেই রিপাবলিকান শিবিরের বড় অংশ তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানানোর ব্যাপারে নাখোশ। রমনিকে এ পদে বসানো নিয়ে ট্রাম্প সংশয়ে রয়েছেন বলে মনে করেন তার প্রধান কৌশলবিদ স্টিফেন ব্যানন। তার সহকর্মীদের ধারণা, রমনির নেতৃত্বে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রতারক কোনো সংস্থার নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তবে ট্রাম্পের অফিসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প মনে করেন এ পদের জন্য রমনিই একমাত্র যোগ্যপ্রার্থী। তিনিই পারবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদকে উঁচুতে নিয়ে যেতে। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের মনোভাব বোঝা বড় দায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে তার সিদ্ধান্তের রদবদল হয়ে যায়। সম্প্রতি দলের মিত্রদের সঙ্গে এক আলোচনায় জুলিয়ানির প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তবে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে রমনিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেয়ার চিন্তা নিয়ে। ট্রাম্পের প্রচারণা ম্যানেজার কেলিয়ানি কনওয়ে টুইটারে বলেন, রমনিকে নিয়োগ দেয়া নিয়ে জনগণের কাছ থেকে সতর্ক বার্তার বন্যা বয়ে গেছে।
২০১২ সালে মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন রমনি। কনওয়ে জানান, ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক জুলিয়ানিকে নিয়েও শংকা কাজ করছে জনগণের মাঝে। রিপাবলিকানদের ধারণা, বৈদেশিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে তার বিভ্রান্তিকর চিন্তা পররাষ্ট্রনীতিতে তালগোল পাকিয়ে ফেলতে পারেন। তাদের আরও শংকা, বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের বিষয়ে জুলিয়ানির কর্মদক্ষতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ট্রাম্পের পছন্দের তালিকায় রমনি ও জুলিয়ানি উভয় রয়েছেন। উভয়ই তাদের স্বার্থের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বসতে পারেন বলেও মনে করেন ট্রাম্প। তবে তার কাছে জুলিয়ানিই বেশি প্রিয়। আবার একসময় ট্রাম্প তার এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, রমনিই এ পদের জন্য বেশি উপযুক্ত। এটা অনেকটা স্পষ্ট যে, এ দু’জনের যে কোনো একজনকেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এ পদে বসাতে পারেন ট্রাম্প। এদের বাইরে আরও বেশ কয়েকজনের নাম তালিকায় রয়েছে, যাদের নিয়েও চিন্তা করছেন এ প্রক্রিয়ায় জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুই কর্মকর্তা বলেন, রমনি ও জুলিয়ানি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডার জেনারেল জন কেলি, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ও সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডেভিড এইচ পেট্রায়াস এবং টেনেসির সিনেটর বব ক্রকার এ পদে বসতে পারেন।

No comments:

Post a Comment