আমেরিকাকে
যদি সত্যিই বলতে হয়, এটা অভিবাসীদের দেশ, তাহলে ডেভন এভিনিউকে বলতে হবে
এটাই আসল আমেরিকা। শিকাগো শহরের উত্তর দিকে পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলে বাস করছে
সিরিয়া, ইরাক, তুরস্ক থেকে আসা অ্যসিরিয়ান খ্রিস্টানরা, রাশিয়া থেকে আসা
ইহুদিরা আর ভারতীয়, বাংলাদেশী ও পাকিস্তানিরা। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে এখানে
রয়েছে আধুনিক খ্রিস্টানদের নানা গোষ্ঠী। শেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ মিলে একই পরিবার
যেন।
আমেরিকার বহুত্ববোধকে স্বীকৃতি দিতে ডেভন এভিনিউর একাংশের নাম রাখা
হয়েছে ‘গান্ধী মার্গ’। একটু দূরে গেলেই চোখে পড়বে সাইনবোর্ড, ‘মোহাম্মদ আলী
জিন্নাহ ওয়ে’ বা অনারারি ‘শেখ মুজিব ওয়ে’। তবুও, ডেভন এভিনিউতে তারা সবাই
আমেরিকান। চেন্নাইয়ের খাঁটি তামিলিয়ান নগেন্দ্র নারায়ণন বলছিলেন- দেখুন,
নির্বাচন এলেই অভিবাসীদের নিয়ে টানা-হেঁচড়া শুরু হয়। অথচ অন্য সময়ে এটা
কোনো ইস্যুই না। সেখানে তিনি বিশুদ্ধ ভেজিটেরিয়ান রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছেন
প্রায় আট বছর ধরে। তিনি বলেন, ‘ইমিগ্র্যান্টরা ছিল, আছে এবং থাকবে। খেয়াল
করবেন, যারা এটা পছন্দ করতে পারছে না, তাদের সংখ্যা কিন্তু দিনে দিনে কমে
আসছে। মজার ব্যাপার হল, ডোনাল্ড ট্রাম্প এদের প্রতিনিধিত্ব করছেন।’ মার্কিন
সমাজের যে শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে মার খাচ্ছে, তারাই ট্রাম্পের
পেছনে লাইন দিয়েছে বলে মনে করছেন ডেভন এভিনিউর বাংলাদেশী মুদি দোকানদার ওমর
ফারুক। ১৯৮১ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। এরপর এখানেই
ব্যবসা শুরু করেন। তার মালিকানায় ‘সুন্দরবন ফ্রেশ ফিশ’ ডেভন এভিনিউর ১০
হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্টদের রসনার চাহিদা মেটায়। ফারুক জানান,
অভিবাসী ইস্যু কোনো ব্যাপার না। মূল সমস্যা হচ্ছে, শিক্ষার অভাবের জন্য
নিু বর্গের এক শ্রেণীর আমেরিকান এখনও প্রাচীন ধ্যান-ধারণাকেই জাপটে ধরে
রাখতে চাইছে। তাই মুসলমান, ইমিগ্র্যান্ট, নারীর সমঅধিকার ইত্যাদিকে তারা
মেনে নিতে পারছেন না। তাহলে আমেরিকার ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটি কেন ট্রাম্পকে
সমর্থন করতে পারে না? কারণ অর্থনৈতিকভাবে তারাও তো পিছিয়ে রয়েছে। এর জবাব
এসেছিল শিকাগোর এক ট্যাক্সি ড্রাইভারের কাছ থেকে। ২৫-২৬ বছর বয়সী তিমোর
বিদানভের বাড়ি মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তানে। রাজধানী বিশকেকে মা-বাবাকে তার
নিয়মিত টাকা পাঠাতে হয়। তিনি বললেন, তার ট্যাক্সির কিছু কিছু আরোহী মাঝে
মধ্যেই মুসলমানদের গালাগালি করে। তিনি যখন বলেন যে তিনিও একজন মুসলমান, তখন
ট্যাক্সির প্যাসেঞ্জাররা বলেন, না তোমার কথা আলাদা। কারণ তুমি পরিশ্রম করে
টাকা আয় কর। পার্থক্যটা এখানেই। আমি সারা দিন খাটি, টাকা কামাই, কিন্তু
ট্যাক্স দেই। তিনি আরও বললেন, ট্রাম্প শুধু ইমিগ্র্যান্টদের গালাগালিই করেন
না, ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার কোনো সুযোগও তিনি ছাড়েন না।

No comments:
Post a Comment