নির্বাচনের মুহূর্ত ঘনিয়ে এসেছে। শেষ
প্রচারণায় গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, হিলারি
ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হলে পুরো সরকারি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ট্রাম্পের মতে,
এর ফলে দেশে নজীরবিহীন সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে। কারণ হিলারির বিরুদ্ধে
বছরের পর বছর তদন্ত চলবে। এমনকি বড় ধরনের ক্রিমিনাল বিচারের কাজ শুরু হবে।
নতুন এ অভিযোগের সঙ্গে পুরনো অভিযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন যে, নির্বাচনে হিলারির
পক্ষে কারচুপি হতে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে- এটা কি ট্রাম্পের
কেবলই শেষ সময়ের রাজনৈতিক প্রচারণা? নাকি তিনি হেরেও যাওয়ার পরও হাঙ্গামা
চালিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করছেন! ট্রাম্পের যুক্তি হচ্ছে, হিলরির
প্রেসিডেন্সি অবৈধ শুধু এ কারণে নয় যে নির্বাচনে কারচুপি হচ্ছে; বরং তিনি
একজন অপরাধী। একজন অপরাধীর প্রার্থিতা মৌলিকভাবে অবৈধ। ট্রাম্প তাই
ভোটারদের বলেছেন, দেশকে নরকে ঠেলে দেয়ার আগে তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত
করতে। এটা সাময়িক বক্তব্য হলেও বাস্তবতা যেদিকে যাচ্ছে তাতে ট্রাম্প হেরে
যাওয়ার পরও তার শোরগোল অব্যাহত রাখবেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস
নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে,
ট্রাম্পের সমর্থকদের সিংহভাগ তার উগ্র
প্রচারণায় প্রণোদিত। জরিপ অনুযায়ী ট্রাম্প সমর্থকরা বিশ্বাস করেন না
নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ হবে। তাদের অধিকাংশের মতে, ট্রাম্পের
বিরুদ্ধে ব্যাপক মাত্রায় ভোট জালিয়াতি হতে যাচ্ছে। এ কারণে ট্রাম্পের অন্তত
৬৩ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তারা নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন না। ৩৪ শতাংশ
বলেছেন, তারা ফল মানতেও পারেন, নাও মানতে পারেন। ট্রাম্পের প্রচারণা
ক্যাম্পের সিইও স্টিফেন ব্যানন রিপাবলিকান দলের মধ্যেই একটা আলাদা
‘রাজনৈতিক আন্দোলন’ তৈরি করেছেন। নির্বাচনের পরও এটা অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্পের মূল পরিকল্পনা জানা না গেলেও তার প্রচারণা কমিটির আন্দোলনে
দলীয়ভাবে হিলারির প্রেসিডেন্সিকে অবৈধ দাবি করা হতে পারে। হিলারির অবৈধতার
ধারণা প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেস রিপাবলিকানদের মধ্যে মারাত্মক সংঘাত তৈরি
করতে পারে। এমন হলে সরকার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। হিলারির ই-মেইল কেলেংকারি
নিয়ে এফবিআইয়ের নতুন তদন্ত ঘোষণা (যদিও সংশ্লিষ্টতা এখনও জানা যায়নি) এবং
রিপাবলিকানদের অভিশংসনের দাবি সরকারে বিশৃংখলা তৈরি করবে। রিপাবলিকানদের
অসহযোগ আন্দোলনে সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগের বিষয়টা নির্বাচনের পরও ঝুলে
থাকতে পারে। কংগ্রেসে ট্রাম্পের সমর্থকরা ও হার্ডলাইন রিপাবলিকানরা
হিলারির প্রেসিডেন্সি অবৈধ দাবি করলে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হবে এবং সরকার ও
রাজনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এ লক্ষ্যে ট্রাম্প হাঙ্গামা চালিয়েই
যাবেন। গ্রেস সার্জেন্ট : ওয়াশিংটন পোস্টের সিনিয়র সাংবাদিক

No comments:
Post a Comment