Wednesday, November 16, 2016

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া নজিরবিহীন বিক্ষোভ প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ক্লাস ফেলে রাজপথে নেমে এসেছেন শিক্ষার্থীরাও। মঙ্গলবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা ‘আমার প্রেসিডেন্ট নয়’ বলে স্লোগান দেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হিসাব মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার জন্য শহরটির প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্ত দেয়াল তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সিয়াটলের পাবলিক স্কুলগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০টি হাইস্কুল ও মাধ্যমিক স্কুলের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ক্লাস ছেড়ে গিয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়। এই সংখ্যা শহরটির মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশ বলে জানিয়েছেন স্কুলবিষয়ক মুখপাত্র লুক ডুয়েসি। পোর্টল্যান্ড, ওরেগন, মন্টগমারি কাউন্টি, মেরিল্যান্ড এবং সানফ্রান্সিসকো এরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শত শত তরুণ প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা যেসব প্ল্যাকার্ড বহন করেছে তার কোনো কোনোটিতে লেখা ছিল, ঘুরে দাঁড়াও, একতাই বল। ছাত্ররা বলে, তারা বর্ণবাদী প্রেসিডেন্ট চায় না। কেউ কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে ট্রাম্পকে সরাসরি ‘নাৎসি’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিহিত করে। বিশ্বকে হতবাক করে ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে দেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাকে ভোটের প্রচারের সময় নানা মন্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার এই জয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের মুখেই কট্টর ডানপন্থী স্টিফেন ব্যাননকে নিজের চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট বা মুখ্য নীতিনির্ধারক হিসেবে বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প। শীর্ষ কৌশলবিদ হিসেবে ব্যাননকে বেছে নেয়ায় অনেকেই ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তাদের শঙ্কা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেত জাতীয়তাবাদী আন্দোলন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।
ট্রাম্পকে সর্বোচ্চ গোপনীয় তথ্য জানাবেন গোয়েন্দারা : ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোপন তথ্য সম্পর্কে অবহিত হবেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দেশে-বিদেশে গোয়েন্দা তৎপরতা, অভিযান এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়েও ট্রাম্পকে ব্রিফিং করা হবে। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ের পর এ ধরনের গোয়েন্দা ব্রিফিং শুনে আঁতকে উঠেছিলেন বারাক ওবামা। সে সময় ওবামা কৌতুক করে বলেন, ‘ভাগ্যিস এ ভবনের জানালা বন্ধ রয়েছে। নয়তো আমি লাফিয়ে নিচে পড়ে যেতাম!’ ট্রাম্পকে এরই মধ্যে কিছু গোয়েন্দা ব্রিফিং দেয়া হয়েছে। তবে এখনও সিরিজ ব্রিফিং বাকি রয়েছে, যেগুলোকে বারাক ওবামা ‘গভীরতম গোপনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

No comments:

Post a Comment