Tuesday, November 15, 2016

রোহিঙ্গাদের ওপর বিমান থেকে গুলি, নিহত ৩০

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় রোহিঙ্গা গ্রামে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে ৩০ জনকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোববারের এ ঘটনায় নিহতদের হাতে রামদা ও মুগুর ছিল বলে দাবি সেনাবাহিনীর। খবর বিবিসির। শনিবার রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সেনাবাহিনীর ওপর সশস্ত্র ব্যক্তিদের চোরাগোপ্তা হামলায় দুই সেনা নিহত হন। এরপর সেনাবাহিনীর পাল্টা হামলায় ছয় হামলাকারীও নিহত হন বলে দাবি সেনাবাহিনীর। হামলাগুলো সশস্ত্র জঙ্গিদের লক্ষ্য করে চালানো ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী। তবে নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এসব তথ্য যাচাই করা কঠিন। বিবিসি বলেছে, রাখাইন রাজ্যে স্বাধীন গণমাধ্যমের কোনো প্রবেশাধিকার না থাকায় সরকারি হিসাবগুলোকে সন্দেহের চোখেই দেখতে হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,
‘রোববার রোহিঙ্গারা ১৩০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা তৈরি করতে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পেতে তারা এগুলো করেছে।’ তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোস্ট করা ছবি এবং ভিডিওতে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারীরাও রয়েছেন। ওই দু’দিনে শত শত গ্রামবাসীকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। বিবিসির রেঙ্গুন প্রতিনিধি বলেছেন, ‘সেনাবাহিনীর দেয়া বিবৃতিতে যদি আপনি বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনাকে মানতে হবে, আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত সেনাদের ওপর রোহিঙ্গা পুরুষরা ‘কাঠের মুগুর ও রামদা’ নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আপনাকে এও মানতে হবে, রোহিঙ্গারা তাদের নিজেদের ঘরবাড়িতে নিজেরাই আগুন দিয়েছে এবং সচেতনভাবে নিজেদের গৃহহীন করেছে।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেয়া ভাষ্যে পুরো ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। তবে এর আগে রোহিঙ্গারাও ঘটনা অতিরঞ্জিত করায় তাদের বর্ণনাও সন্দেহের চোখে দেখতে হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তাদের পোস্ট করা ছবি এবং ভিডিওতে দেখা গেছে, নারী ও শিশুদের মৃতদেহ পড়ে আছে এবং জ্বলন্ত ঘরবাড়ি ছেড়ে লোকজন পালাচ্ছে। কয়েকটি ছবিতে মাথার ওপর হেলিকপ্টার গানশিপ দেখা যাচ্ছে। এগুলোর কয়েকটি অবশ্যই সঠিক বলে মন্তব্য করেছে বিবিসি। ২০১২ সালে ওই রাজ্যের জাতিগত দাঙ্গায় শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হওয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেখানে চরম উত্তেজনা দেখা গেছে। ৯ অক্টোবর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হন।
দুই দিনের মাথায় ১১ অক্টোবর মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও ১২ জনের মৃত্যুর কথা জানায়। তারা দাবি করে, প্রায় ৩০০ মানুষ পিস্তল এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে সৈন্যদের ওপর আক্রমণ করলে সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমণ করে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে জাতিগত দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেখানে ঘরবাড়িতে আগুন দেয়া, নারীদের ধর্ষণসহ নানা ধারার শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চলছে। শনিবার রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়নের স্যালেলাইট ইমেজ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় মংগদাউ জেলার তিনটি গ্রামের ৪৩০টি ভবন পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন স্যাটেলাইট ইমেজ রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের নিদর্শনই কেবল প্রকাশ করেনি বরং এটাও নিশ্চিত করেছে যে আমরা আগে যা ভেবেছিলাম পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ।’ রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার সরকার। সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা মনে করে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশ থেকে সেখানে গেছে।

No comments:

Post a Comment