২০১৬ সালের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে
বিশ্বের ১৬৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম। আগের বছর এ সূচকে
বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৫তম। ২০১৪ সালের তুলনায় পরের বছর এদেশে সন্ত্রাসী ঘটনা বেশি ঘটেছে। বুধবার এ সূচক প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পিস।
চার বছর ধরে এ সূচক প্রকাশ করছে সংস্থাটি। ২০১৫ সালে বিশ্বের ১৬৩টি দেশে
সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ সূচকের শীর্ষে অবস্থান ইরাকের। গত বছর সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনার ২০ শতাংশই ঘটেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশে।
সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ৫টি দেশে- ইরাক, আফগানিস্তান,
নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও সিরিয়া। এ ৫টি দেশে বিশ্বের সব দেশে সন্ত্রাসী
ঘটনায় নিহতের মোট সংখ্যার ৭২ ভাগ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। সূচকে এ ৫টি দেশ
যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে। সূচকে
প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান ৮ নম্বরে। চীনের অবস্থান বাংলাদেশের ঠিক পরেই
২৩ নম্বরে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র আছে যথাক্রমে ২৯, ৩৪ ও ৩৬
নম্বরে। যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া ও অস্থিতিশীল সোমালিয়ার অবস্থান যথাক্রমে ১০ ও
৭ নম্বরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালটি ছিল বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন।
বিগত দেড় দশকের মধ্যে গত বছরই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে
বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে মোট ৪৫৯টি
সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে নিহত হন ৭৫ জন। বেশির ভাগ সন্ত্রাসী ঘটনাই
জামা’আতুল মুজাহিদীনের মতো স্থানীয় উগ্রপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে ঘটে। এ সংগঠনই এ বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার জন্য অভিযুক্ত। শুধু এ হামলায়ই নিহত হন ২৯ জন।
ইন্সটিটিউট ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পিসের প্রতিবেদনে ২০১৫ সালে ৪৫৯টি
সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হওয়ার কথা বলা হলেও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত
তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা ছিল ২৮টি। এতে নিহত হন ৩০ জন। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে
সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ১১টি হামলার দায় স্বীকার করে। আর
আনসার আল ইসলাম দায় স্বীকার করে ছয়টির। সংগঠন দুটি এসব হামলায় তাদের দায়
স্বীকার করলেও বাংলাদেশ সরকার এসব হামলায় কোনো বিদেশী জঙ্গি সংগঠনের জড়িত
থাকার দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। তবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী
বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এসব
সন্ত্রাসী ঘটনার বেশির ভাগের সঙ্গে ‘নব্য জেএমবি’ ও আনসার আল ইসলাম বা
আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জড়িত। গত বছর সন্ত্রাসী ঘটনায় সারা বিশ্বে নিহত মানুষের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০১৫ সালে সন্ত্রাসী ঘটনায় মোট ২৯ হাজার ৩৭৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম সন্ত্রাসের কারণে প্রাণহাণি কমেছে।
আইএস বা বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে তৎপরতার জন্যই এ
সংখ্যা কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তারপরও যেসব সন্ত্রাসী ঘটনা
ঘটেছে, তাতে ৮ হাজার ৯৬০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় ৭৬টি দেশ সন্ত্রাসবাদের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আর ৫৩টি দেশে সন্ত্রাসী ঘটনা বেড়ে গেছে। আইএসআইএল গ্রুপ গত বছর ২৮টি দেশে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে ২৭৪টি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।

No comments:
Post a Comment