ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
নাসিরনগরসহ সারাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রোববার আইন ও সালিস কেন্দ্র
(আসক) বাদী হয়ে এ রিট দায়ের করেন। আসকের আইনজীবী আবু ওবায়দুর রহমান জানান,
বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য
আবেদনটি উত্থাপন করা হয়েছে। আমরা এখন শুনানির অপেক্ষায় আছি।
রিট আবেদনে
স্বরাষ্ট্রসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনে
নাসিরনগরের ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা
হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। আর ব্যর্থতার জন্য
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না
তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। হিন্দুদের রক্ষা এবং নতুন করে যেন আর এ ধরনের
ঘটনা না ঘটে তারও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে স্বরাষ্ট্রসচিব,
জনপ্রশাসন সচিব, আইজিপি ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শককে আদালতে
প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্রসচিব,
জনপ্রশাসনসচিব, আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে কোন কর্তৃত্ব বলে নাসিরনগরের র্যালিতে
অংশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুসলিম
সেন্টিমেন্টে আঘাত দেয়ার অভিযোগ এনে বক্তব্য দিয়েছেন,
তার ব্যাখ্যা দেয়ার
নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই দু'জনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ
করা হচ্ছে, আদালতে তারও প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে
আবেদনে। উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর ফেসবুকে ইসলামকে অবমাননার অভিযোগকে
কেন্দ্র করে নাসিরনগরের প্রায় ১৫টি মন্দির ও শতাধিক হিন্দুবাড়িতে হামলা করে
দুর্বৃত্তরা। এরপর গত শুক্রবার ভোরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচটি ঘর ও একটি
মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। প্রথম হামলার ঘটনায় নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ২
হাজার ৪০০ জনকে আসামি করে দু'টি মামলা হয়। এসব ঘটনায় রোববার সকাল পর্যন্ত
৫৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া নাসিরনগরের ঘটনায় উসকানি দেয়ার
অভিযোগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের ঘনিষ্ঠ তিন আওয়ামী লীগ
নেতা- নাসিরনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম, চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ
সভাপতি হাজী সুরুজ আলী ও হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়াকে
দল থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

No comments:
Post a Comment