Sunday, November 6, 2016

সিটিসেলের বিষয়ে বোর্ড মিটিংয়ে বসছে বিটিআরসি

সিটিসেলের তরঙ্গ খুলে দেয়ার বিষয়ে আপিল বিভাগের নির্দেশনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বোর্ড মিটিংয়ে বসছে বিটিআরসি। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় হাইকোর্টের আপিল বিভাগকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এর আগে সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে সিটিসেলের আইনজীবী এম আমিনুদ্দিন জানান, 'সিটিসেলের তরঙ্গ তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেয়ার নির্দেশ থাকলেও এখনও খুলে দেয়া হয়নি।' পরে আদালত এ বিষয়ে বিটিআরসির বক্তব্য জানতে চাইলে তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আজ বৈঠকে বসবে বিটিআরসি।
গত বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের এই বেঞ্চ আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে একশ' কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে দেশের প্রথম বেসরকারি মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ (স্পেকট্রাম) খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আবারও তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল করতে পারবে বিটিআরসি। একইসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হয়নি এই অভিযোগে গত ২১ অক্টোবর সিটিসেলের কার্যক্রম (তরঙ্গ) বন্ধ করে দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। সংস্থাটির ওই সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে ২৪ অক্টোবর আবেদন করে সিটিসেল কর্তৃপক্ষ। বিটিআরসি'র দাবি, সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। যদিও এই পাওনা নিয়ে পরস্পর বিরোধী দাবি রয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে আপিল বিভাগ ছয় সপ্তাহের মধ্যে পাওনা টাকার তিন ভাগের দুই ভাগ এবং বাকি টাকা দুই মাসের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য সিটিসেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল।
সিটিসেল বকেয়া টাকার মধ্যে ১৩০ কোটি বিটিআরসিকে এবং ১৪ কোটি টাকা এনবিআরের খাতে জমা করে বলে দাবি করে। কিন্তু, বিটিআরসি'র দাবি, প্রথম কিস্তির টাকার অংক ৩১৮ কোটি টাকা। এরই মধ্যে গত ২০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, বিটিআরসির পাওনা না দেয়ায় সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল বা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড। বর্তমানে এই কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিএনপি নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান মালিকানাধীন প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড। সিটিসেলের সবচেয়ে বেশি ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল এশিয়া প্যাসেফিক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হাতে। এছাড়া ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

No comments:

Post a Comment