যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর থেকে মুসলিম, হিস্পানিক এবং অন্যান্য
সংখ্যালঘু অভিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করছেন এসব
সম্প্রদায়ের মানুষ। এ ধরণের হামলার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী
প্রচারণায় মুসলিমদের টার্গেট করে দেয়া বক্তব্যকে দায়ী করছেন মুসলিম
সম্প্রদায়ের নেতারা। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা।
বিবিসির ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক
বাংলাদেশী অভিবাসী, যাদের অধিকাংশই মুসলিম। তারা বিভিন্নভাবে হামলার শিকার
হচ্ছেন। যার কারণে ভীতিকর মনোভাব নিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করেন তারা।
একটি
হামলার বিবরণ দিয়ে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী অভিবাসী মাজেদা উদ্দীন
বলেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কয়েকদিন পর আমার ভাইয়ের ১৯ বছর
বয়সী মেয়ে বাসে করে কলেজে যাচ্ছিল। সে হিজাব পরে। চারজন শ্বেতাঙ্গ দম্পতি
তাকে অ্যাটাক করে। তার হিজাব ধরে টানাটানি করে, চিৎকার করে বলতে থাকে 'এ
দেশ থেকে বের হয়ে যা। এটা তোদের দেশ না।' এরপর তাকে গালমন্দ করতে থাকে।
এরপর সে বাস থেকে নেমে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে ট্যাক্সিতে চড়ে বাসায় যায়
বলে জানান মাজেদা উদ্দিন।
নিজের ভাইয়ের মেয়ের এই নিগ্রহের জন্য ট্রাম্পের 'মুসলিমদের নিষিদ্ধ করা
হবে, হিজাব নিষিদ্ধ করা হবে' এমন বক্তব্যকে দায়ী করছেন বাংলাদেশী এই
অভিবাসী। তিনি বলেন, শুধু তারাই নয়, এরপর থেকে কমবেশি সব অভিবাসীই এমন
আচরণের শিকার হচ্ছেন। নিজেও ভীত একটি মনোভাব নিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করেন বলে
জানান মাজেদা। তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য খুব একটা সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
'নির্বাচনের পরে এ ধরনের হামলা থামানোর কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাতে
কি কোনও কাজ হবে বলে মনে করেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে আমেরিকার এ বাসিন্দা
বলেন, তাতে তিনি একমত হতে পারছেন না। তিনি বলেন, ইলেকশনের একদিন পরে
ট্রাম্পের নির্বাচনী ওয়েবসাইট থেকে মুসলিমদের নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত
বক্তব্য সরিয়ে নেয়া হলেও, তৃতীয় দিনে আবার সেটি ওয়েবসাইটে উঠে আসে।

No comments:
Post a Comment