বিএনপির
চেয়রাপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে একের পর এক
গোপন চুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে দেশকে যেদিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তাতে জাতীয়
স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনই কোনাও না
কোনোভাবে আগ্রাসী শক্তির দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের ভূ-প্রাকৃতিক
পরিবেশ, মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির ওপর চলছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিরবচ্ছিন্ন
আগ্রাসন।
তাই এই মূহুর্তে আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের এদেশীয় প্রতিভূদের
রুখতে মওলানা ভাসানী প্রদর্শিত পথই আমাদের পাথেয়। আমরা সেই পথেই অপশক্তির
অশুভ ইচ্ছাকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবো। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান
ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায়
খালেদা জিয়া এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়,
গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় মওলানা ভাসানী
আমাদের প্রেরণার উৎস। তার নিখাঁদ দেশপ্রেম, দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষা এবং
গণতন্ত্র ও মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে
অনুপ্রাণিত করবে। তার আদর্শকে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলেই আমরা আমাদের
অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবো। এদেশে আবারও গণবিরোধী শক্তি গায়ের জোরে
রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে গণতন্ত্রে স্বীকৃত মানুষের সকল স্বাধীনতাকে হরণ করে
নিয়েছে। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার
স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন বিএনপি
প্রধান।
খালেদা বলেন, মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক প্রাতঃস্মরণীয়
নাম। সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রবাদ
পুরুষ মওলানা ভাসানী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপ-মহাদেশের
নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে তিনি আপোষহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫০ এর
দশকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম সুর ধ্বণিত হয়েছিল তার কন্ঠে। তিনি
দেশবাসীকে প্রথম স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছলেন। দেশমাতৃকার মুক্তির পথ
প্রদর্শক ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম,
গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কৃষক শ্রমিক মেহনতি জনতার ন্যায্য অধিকার আদায়ের
সংগ্রামে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ছিলেন প্রদীপ্ত এক আলোকবর্তিকা।

No comments:
Post a Comment