Wednesday, November 16, 2016

হাঁটু ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা

 আমাদের শরীরের সব ভর বহন করে হাঁটু। তাই হাঁটু ব্যথা আমাদের কর্মজীবনকে স্থবির করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। অনেক রোগী অভিযোগ করেন তিনি হাঁটু ব্যথার কারণে স্বাভাবিকভাবে নামাজ পড়তে পারেন না বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য হাঁটতে পারেন না। পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী-পুরুষ সবচেয়ে বেশি এ ব্যথায় ভুগে থাকেন। যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাদের হাঁটু ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। হাঁটু ব্যথার কারণ : হাঁটু তিনটি ভিন্ন হাড়ের সংযোগস্থল। এটি লিগামেন্ট ও মাংসপেশি দ্বারা সুগঠিত। জয়েন্টের সাবলীল নাড়াচাড়ার জন্য এর ভেতরে গ্রিজের মতো স্থিতিস্থাপক পদার্থ থাকে। এখন বয়স বা অতিরিক্ত ওজন বা অন্য কোনো কারণে যদি হাড়ে পরিবর্তন সাধিত হয় বা ভেতরের তরল পদার্থের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পায় তবে হাঁটুতে মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা হতে পারে। অস্টি ও আথ্রাইটিস বা হাঁটু ক্ষয় বয়স্ক রোগীদের হাঁটু ব্যথার প্রধান কারণ। এক্স-রে দ্বারা এর তীব্রতা সহজেই নির্ণয় করা যায়। এছাড়া ওলিগামেন্ট, মাংসপেশি বা মিনিসকাস ইঞ্জুরির জন্যও হাঁটু ব্যথা হতে পারে।
চিকিৎসা : কারণ নির্ণয় করতে পারলে চিকিৎসা সহজ হয়। হাড় ক্ষয়জনিত হাঁটু ব্যথায় সমন্বিত চিকিৎসা বা ইন্টিগ্রেটেট ট্রিটমেন্ট যেমন- ইনফিলট্রেশন, ম্যানিপুলেশন ও ইলেকট্রোথেরাপি কার্যকর। এর সঙ্গে বিশেষ ধরনের ব্যায়াম করলে হাঁটু সবল হয়। ইনফিলট্রেশন দ্বারা হাঁটুর জেলির স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো যায়, ফলে হাঁটু অধিক সচল হয় এবং দ্রুত ব্যথা কমে আসে। হাঁটু ব্যথায় ম্যানিপুলেশনও ভালো কাজ করে, ডিপফ্রিকশান বা সিরিয়্যাক্স টেকনিক নন-আথ্রাইটিক ব্যথা কমাতে কার্যকর। ইলেকট্রো থেরাপি সব ধরনের হাঁটু ব্যথা থেকেই রোগীকে উপশম দেয়।
উপদেশ : হাঁটুর যত্ন নিন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন। বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলুন। ব্যথা তীব্র হওয়ার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডা. মোহাম্মদ আলী
চিফ কনসালট্যান্ট
হাসনাহেনা পেইন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি রিসার্চ সেন্টার
উত্তরা, ঢাকা। ফোন:- ০১৭৩২৭৬২৩৩৩

No comments:

Post a Comment