Wednesday, November 23, 2016

শিশুর টনসিল হলে যা করবেন

চলছে অগ্রহায়ণ মাস। শীত পড়তে শুরু করেছে, তারপরও অভ্যাসগত কারণে কিছু হবে না ভেবে আমরা ফ্রিজের ঠাণ্ডা খাবার খেয়েই চলেছি। রাতে ফ্যান ছাড়তেও কৃপণতা করি না। কিন্তু এতেই তো হয়েছে আপনার যতো বিপত্তি। আপনার ছোট্ট সোনামনির যে গলা ব্যথা শুরু হয়েছে, দেখা দিয়েছে টনসিলের সমস্যা। সে কোনও খাবার মুখে তুলতে পারছে না, বার বার কান্না করছে। শীতের এ সময়ে শিশুদের মধ্যে এ সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। গলায় ব্যথা হলে কথা বলা, খাবার খাওয়া এমনকি পানিপানেও কষ্ট হয়। একে সাধারণত টনসিলের সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। সাধারণত শিশুরাই এ রোগে বেশি ভুগে। চার থেকে ১০ বছরের শিশুদের মধ্যে টনসিল ও এডিনয়েড খুব সক্রিয় থাকে। আর শীতের সময় টনসিল প্রদাহের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। টনসিল ও এডিনয়েড এক ধরনের লসিকাগ্রন্থি, যা আমাদের গলার ভেতরে শ্বাস ও খাদ্যনালীর মুখে অবস্থিত।
শ্বাস ও পরিপাকতন্ত্রের প্রবেশপথে প্রহরী হিসেবে টনসিল ও এডিনয়েড কাজ করে। এরা খাদ্য ও বায়ুবাহিত ক্ষতিকারক পদার্থ ও রোগজীবাণু ধ্বংস করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময়েই শিশুরা টনসিল ও এডিনয়েডের প্রদাহে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এডিনয়েড সাধারণত বয়ঃসন্ধিক্ষণে ছোট হয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে বিলীন হয়ে যায়। শিশুরা সাধারণত টনসিল ও এডিনয়েডের প্রদাহ ছাড়াও টনসিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিসহ জটিল রোগেও আক্রান্ত হয়। চিকিৎসকের মতে, শিশুর দুর্বল স্বাস্থ্য, অপুষ্টি, এলার্জি জনিত অসুখ কারণে টনসিল প্রদাহ বাড়তে পারে। দাঁত, নাক ও সাইনাসের প্রদাহ এবং ঠাণ্ডার কারণে এ রোগ দেখা দেয়। ভাইরাস ও বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় অবহেলা এ রোগের কারণ। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ রোগ শিশুদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।
লক্ষণ
* এ রোগে শিশুরা সাধারণত কিছু খেতে চায় না।
* গলায় তীব্র ব্যথা এবং ঢোক গিলতে কষ্ট হয়।
* শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়।
* জ্বরের সঙ্গে অনেক সময় কাঁপুনি, খিচুনি, মাথাব্যথা ও সারা শরীরে ব্যথাও থাকে।
* গলার উপরিভাগের লসিকাগ্রন্থি ফুলে যায় ও ব্যথা থাকে। সর্দি থাকা, নাক বন্ধ থাকা, নাকের নিঃসরণ, মুখে দুর্গন্ধ, খাওয়া-দাওয়ায় অরুচি এবং গলার উপরিভাগের লসিকাগ্রন্থি সব সময় ফুলে থাকে।
* শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতিবন্ধকতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তাদের শ্বাস ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ হতে পারে। যেমন- পালমোনারি হাইপারটেনশন, হৃদরোগ এবং হঠাৎ হৃদযন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়ে ঘুমের মধ্যে মৃত্যুও ঘটার আশংকা থাকে।
চিকিৎসা
এ রোগ দেখা দিলে সবার আগে ঠাণ্ডা খাওয়া পরিহার করতে হবে। দাঁত ও মুখের সঠিক পরিচর্যা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, হালকা শরীরচর্চা করতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও প্রতিবন্ধকতা জনিত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। সমস্যা গুরুতর হলে টনসিল ও এডিনয়েড অপারেশনের মাধ্যমে ফেলে দেয়াই ভালো।
শিশু বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

No comments:

Post a Comment