ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুল শহরে চলছে
ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই। এ শহর থেকে আইএস উৎখাত হলে তা হবে
জঙ্গি সংগঠনটির জন্য একটি বড় বিপর্যয়। তাই এখানে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য
তারা তাদের অস্ত্রের ভাণ্ডারে নতুন একটি অস্ত্র যোগ করেছে 'কাঠের তৈরি
ট্যাংক'। এগুলো আকারে আসল ট্যাংকের মতোই। এই শহরে ইরাকি বাহিনীর অভিযানের
সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা
চালিয়ে সহায়তা দিয়ে থাকে। এ বাহিনীর বিমানকে ধোঁকা দেয়ার জন্যই কাঠের
ট্যাংক বানানো হয় বলে জানিয়েছেন সেনা কমান্ডাররা। আকাশ থেকে দেখে আসল এবং
এই নকল ট্যাংকের মধ্যে পার্থক্য বোঝা মুশকিল। তবে কাছ থেকে দেখলে
পার্থক্যটা ধরা পড়ে। উত্তর মসুলের সাদা গ্রামে গত সপ্তাহে আইএসবিরোধী
অভিযানের সময় একটি ভবনে কাঠের তৈরি এই ট্যাংকের সন্ধান পায় ইরাকি বাহিনী।
তারা সেখানে ভুয়া ট্যাংকের পাশাপাশি ৫টি কাঠের তৈরি হাম্ভি (চার চাকার
বহুমুখী সামরিক ট্রাক) দেখতে পায়। সেখানে প্লাস্টিকের মেশিনগান এবং
অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রও পাওয়া যায়। ইরাকের ষোড়শ ডিভিশনের কমান্ডার মেজর
জেনারেল সাবাহ আল আজাউই বলেন,
এসব অস্ত্রের সন্ধান পেয়ে তার বাহিনী অবাক
হয়েছে। ‘আমার মনে হয়ে শহরের ভেতরে এমনটা আরও রয়েছে।’ মুসল রক্ষার জন্য আইএস
জঙ্গিরা যে যে ধরনের কসরত চালাচ্ছেন এটা তার সর্বশেষ ধাপ। তারা বিমান
হামলা থেকে বাঁচতে বহু সুড়ঙ্গ খুঁড়েছে, রাস্তার পাশে বোমা পুঁতে রেখেছে এবং
অগ্রসরমান বাহিনীকে ঠেকাতে শত শত গাড়িবোমা পাঠিয়েছে। তবে ইরাকি বাহিনী এসব
মোকাবিলা করেই মসুলের বহু এলাকা আইএসমুক্ত করেছে। ইরাকি সামরিক বাহিনীর
বিশ্লেষক সাফা আল আসাম বলেন, আইএসের এই প্রচেষ্টা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে তারা
দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সহজে হাল ছাড়বে না। সোয়া দুই
বছর আগে আইএস যখন ইরাকি বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে মসুল দখল করে তখন বিপুল
অস্ত্রশস্ত্র দখল করে নেয়। এর মধ্যে ২৩০০টি হাম্ভিও ছিল বলে ইরাকের
প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি জানিয়েছিলেন। আÍঘাতী গাড়ি বোমা হামলার জন্য
এসব ব্যবহার করছে আইএস জঙ্গিরা। কেননা এসব গাড়ি ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি করে
ঠেকানো সম্ভব নয়। ইরাকের যৌথ অভিযানের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়া জেনারেল ইয়াহিয়া
রাসুল বলেন, এসব ভুয়া অস্ত্র এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তাদের সম্পদ শেষ হয়ে
আসছে এবং তারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ওয়াশিংটন পোস্ট

No comments:
Post a Comment