বন্ধুর
কাছে ছাত্রাবাসে নোট আনতে গিয়ে রংপুরে নার্সিং ইনস্টিটিউটের দুই ছাত্রী
গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মামলা হলে পুলিশ একজনকে
গ্রেফতার করেছে।
গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। মীমাংসার জন্য একটি মহল চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ
হয়। চার দিন পর মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা করতে এলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রংপুর নর্দার্ন নাসিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের
ওই দুই ছাত্রী নগরীর সর্দারপাড়া মেরাজ ছাত্রাবাসে দুই বন্ধুর কাছে নোট
আনতে যান। এ সময় দুই বন্ধু আলমগীর হোসেন ও নিমাই চন্দ্রের সঙ্গে
ছাত্রাবাসের নিচে তারা দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ওই নার্সিং ইনস্টিটিউটের
তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আলমগীর হোসেন তাদেরকে বাইরে দাঁড়িয়ে না থেকে কক্ষে
গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর তারা চারজন মিলে নিমাই চন্দ্রের কক্ষে
গিয়ে আলাপ করছিলেন। এদিকে আলমগীর সর্দারপাড়ার বহিরাগত চার বখাটে পলাশ (২৪),
শাকিল (২৩), মানিক (২২) ও শাহআলমকে (২৪) মোবাইল ফোনে ডেকে আনেন।
তারা
দুই ছাত্রীসহ তাদের দুই বন্ধুকে আটকে কক্ষের ভেতর আপত্তিকর ছবি তুলতে
বাধ্য করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে দুই
বন্ধুকে অন্য একটি কক্ষে আটকে রেখে পাঁচজন মিলে ওই দুই
ছাত্রীকে পালাক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পরে রাতেই ওই দুই ছাত্রী নিজ
হোস্টেলে ফিরে বিষয়টি নর্দার্ন নাসিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুনকে
জানান। অধ্যক্ষসহ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর
তারা ধর্ষিতা দুই ছাত্রীকে মামলা করার পরামর্শ দেন। দুই ছাত্রী তাদের দুই
বন্ধুকে নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১০টায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করতে এলে বিষয়টি
জানাজানি হয়। পরে থানায় ধর্ষিত দুই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
রাতেই মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি কাউকে জানালে আরও ক্ষতি করার হুমকি দেয়ায় তারা
(দুই ছাত্রী) প্রথমে প্রকাশ করেননি। পরে পরিবারের সদস্যদের জানান। কোতোয়ালি
থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'প্রধান আসামি আলমগীর হোসেনকে
গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।' গ্রেফতার আলমগীর
মিয়া ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান ওসি।

No comments:
Post a Comment