কিউবাকে
কমিউনিস্ট রাষ্ট্র ঘোষণা করে অর্ধশতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে
দাঁড়িয়েছিলেন বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। ভাই রাউল কাস্ত্রো ছিলেন তার
ছায়াসঙ্গী। কর্তৃত্ববাদী শাসকের শৃংখলিত জুনিয়র পার্টনার ছিলেন রাউল। ২০০৬
সালে বড় ভাই অসুস্থ হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পান তিনি। ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিক
পদবি লাভ করেন। শুক্রবার ফিদেলের মৃত্যুতে দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা এখন শুধুই
রাউলের। কিউবাকে এখন কোন পথে নেবেন রাউল? ফিদেল বেঁচে থাকতেই কিউবার
রাষ্ট্রীয় নীতিতে কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন রাউল। এর মধ্যে বিশ্বকে সবচেয়ে
অবাক করেছিল- ৫০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন।
এখন কিউবানদের অনেকেই স্কাইপিতে তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। অনেকেই
চেষ্টা করছেন ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর। তার অর্থনৈতিক
পরিকল্পনায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সীমিত স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।
কিন্তু এখনও
রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব রাউলের হাতেই রয়েছে। আর এর সংরক্ষণের জন্য
রয়েছে বিশ্বস্ত সেনাবাহিনী। ফিদেল কাস্ত্রো এমন এক সময় চলে গেলেন যখন
কিউবার আঞ্চলিক মিত্র ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। অনেক কিউবান
চেষ্টা করছেন বিশেষ অভিবাসী সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়ার। মার্কিন
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার কিউবা নীতিতে যেসব পরিবর্তন এনেছিলেন,
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ে তা অনেকটা হুমকিতে পড়েছে। ট্রাম্পের সোজা কথা- কিউবা
সরকার অনেক ছাড় দিতে পারলে সম্পর্ক চালু থাকবে। এ অবস্থায় কী করবেন রাউল
কাস্ত্রো? তিনি কি তার ভাইয়ের লিগ্যাসি বা উত্তরাধিকার বহন করবেন? কঠোর
নীতিতে অটল থাকবেন? নাকি ধীরগতিতে রাউলের নিজস্ব ইচ্ছার প্রতিফল ঘটাবেন?
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন ছাড়াই দেশের অর্থনীতিকে নতুন জীবন দিতে
পারবেন?
হাভানার রাজনৈতিক সংলাপের একটি প্রতিষ্ঠান ‘কিউবা পসিবল’-এর পরিচালক রবার্টো ভেইগা বলেন, ‘ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যু এ জনপদের মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। তবে রাষ্ট্রীয় নীতির পরিবর্তন ঘটাবে না। এটা এক ধরনের আবেগজাত প্রভাব, যার রাজনৈতিক রঙ আছে, কিন্তু তা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব ফেলবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাউল কাস্ত্রো দীর্ঘদিন ধরে দেশ শাসন করছেন। তার একটা টিম আছে। তাই স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।’ কিউবার অবসরপ্রাপ্ত চার্চ ইতিহাসবিদ এনরিক লোপেজ অলিভা পরিবর্তনের প্রত্যাশী। ফিদেলের মৃত্যুতে তিনি উল্লসিত না হলেও কিউবার ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সম্ভাবনায় তিনি উদ্দীপিত। লোপেজ বলেন, ‘এটা এক যুগের শেষ এবং আরেক যুগের শুরু।’ গুঞ্জন রয়েছে, রাউল নিজেই অর্থনৈতিক সংস্কারে আগ্রহী। কিন্তু তার ভাইয়ের বিরোধিতায় অগ্রসর হননি।
হাভানার রাজনৈতিক সংলাপের একটি প্রতিষ্ঠান ‘কিউবা পসিবল’-এর পরিচালক রবার্টো ভেইগা বলেন, ‘ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যু এ জনপদের মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। তবে রাষ্ট্রীয় নীতির পরিবর্তন ঘটাবে না। এটা এক ধরনের আবেগজাত প্রভাব, যার রাজনৈতিক রঙ আছে, কিন্তু তা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব ফেলবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাউল কাস্ত্রো দীর্ঘদিন ধরে দেশ শাসন করছেন। তার একটা টিম আছে। তাই স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।’ কিউবার অবসরপ্রাপ্ত চার্চ ইতিহাসবিদ এনরিক লোপেজ অলিভা পরিবর্তনের প্রত্যাশী। ফিদেলের মৃত্যুতে তিনি উল্লসিত না হলেও কিউবার ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সম্ভাবনায় তিনি উদ্দীপিত। লোপেজ বলেন, ‘এটা এক যুগের শেষ এবং আরেক যুগের শুরু।’ গুঞ্জন রয়েছে, রাউল নিজেই অর্থনৈতিক সংস্কারে আগ্রহী। কিন্তু তার ভাইয়ের বিরোধিতায় অগ্রসর হননি।
চলতি বছরে কমিউনিস্ট
পার্টির সম্মেলনে নতুন কিছু প্রস্তাবনার বিষয় থাকলেও ফিদেল তা আটকে
দিয়েছিলেন। লোপেজের মতে, ‘রাউল এখন মুক্ত। এখন নিশ্চয়ই পরিবর্তন আসবে।’ ৮০
বছর বয়সী লোপেজ বলেন, ‘আমি যখন মায়ামিতে গিয়েছিলাম, অনেকেই প্রশ্ন করেছিল
আমি কেন মায়ামিতে বাস করছি না? আমি বলেছিলাম এ মুভির শেষ দেখতে চাই। আমি
এখন সেটাই দেখছি। আমি খুশি বিপ্লব থেকে এ পর্যন্ত আমি বেঁচে আছি।’ রাউল
কাস্ত্রো নিজেই তার ভিশনে বলেছিলেন, উন্নত ও স্থিতিশীল সমাজতন্ত্র কায়েম
করব। ফিদেল অসুস্থ থাকাকালে রাউল তার ভাইয়ের নিয়োগকৃত অনেক সরকারি
কর্মকর্তাদের রদবদল করেছেন। সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদগুলোতেও নিজের অনুগত
লোকদের বসিয়েছেন। এখন ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে রাউল কিউবায় কতটা পরিবর্তন আনতে
পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

No comments:
Post a Comment