Tuesday, November 29, 2016

কাস্ত্রোর জন্য মন কাঁদে নির্বাসিত জুয়ানিতার

কিউবার সদ্য প্রয়াত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর বোন জুয়ানিতা কাস্ত্রো ছিলেন তার ভাইয়ের একজন কড়া সমালোচক।  কাস্ত্রোকে বেইমান মনে করতেন তিনি। এ কারণে গত ৫২ বছরে তাদের মধ্যে কোনো কথাবার্তা হয়নি। তবে কাস্ত্রোর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে নির্বাসিত কিউবানরা উল্লাস করলেও তাতে শামিল হননি জুয়ানিতা। রক্তের ভাই বলে কথা। কাস্ত্রোর মৃত্যুতে তিনিও কিছুটা শোকাহত। তবে তিনি কাস্ত্রোর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। জুয়ানিতা ১৯৬৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে বাস করছেন।
৮৩ বছর বয়সী জুয়ানিতা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, কাস্ত্রোর মৃত্যুতে উল্লাস দেখে তিনি মর্মাহত হয়েছেন। শুক্রবার মধ্যরাতে কাস্ত্রোর মৃত্যুর সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পরপরই মায়ামির লিটল হাভানায় শত শত মানুষ আনন্দে মেতে ওঠেন। কেউ কেউ কাস্ত্রোকে শয়তান এবং সাপের মাথা বলেও মন্তব্য করেন। তবে জুয়ানিতা বলেন, ‘মায়ামির রাস্তায় কিউবান জনগণ যেটা করেছে তা করার দরকার ছিল না। আমি প্রত্যেকের মনোভাবকে শ্রদ্ধা করি। আমি এটা গ্রহণ করতে পারছি না। এটা কোনো ভালো জিনিস নয়।’ তিনি বলেন, ‘এই প্রথম তারা এমনটা করছে তা নয়। আর আমিও প্রথমবার কষ্ট পাচ্ছি তাও নয়। প্রায় দশ বছর আগে তিনি (ফিদেল) যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তখন আমি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলাম। তখন তারা আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। কারণ আমি বলেছিলাম যে কেউ অসুস্থ হলে, কেউ বিপদে পড়লে কিংবা কেউ মারা গেলে আমি খুশি হই না। এটা খ্রিস্টান বিশ্বাস হতে পারে না। এটা অমানবিক।’ জুয়ানিতা জানান, তার এক বন্ধুর ফোনে তিনি জানতে পারেন যে, তার ভাই মারা গেছেন। সে সময় তিনি সজাগ ছিলেন। এরপর তিনি আর ঘুমাতে পারেননি। কারণ ফোনটি বেজেই চলছিল। তিনি মেক্সিকোতে তার বোনকে ফোন করেন। কিন্তু তিনিও বেশি তথ্য দিতে পারেননি। কাস্ত্রো হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন কিনা তাও জানাতে পারেননি তার বোন। জুয়ানিতা জানান, প্রায় পাঁচ দশক আগে তিনি কিউবা ছাড়লেও সেখানকার সব খোঁজখবর রাখেন। গত আগস্টে কাস্ত্রোর ৯০তম জন্মদিনের ছবি দেখে তিনি কষ্ট পান। এতে দেখা যায়, কাস্ত্রো বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছেন। অন্য একজনের সাহায্যে তাকে উঠে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেক কিউবানের মতো জুয়ানিতাও প্রথমে তার ভাইকে সমর্থন দিয়েছিলেন এই কারণে যে তিনি দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু অচিরেই তাদের মোহ ভাঙে।
কাস্ত্রো নিজেকে একজন কমিউনিস্ট ঘোষণা করেন। জুয়ানিতা জানান, কিউবার শেষ কয়েকটি বছর অবস্থানকালে তিনি বহু লোককে দেশ ছাড়তে সাহায্য করেছেন। এ সময় ভাইয়ের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে। সম্পর্ক চরম তিক্ততায় পৌঁছায় যখন জুয়ানিতা দেখতে পান যে তার কাছের লোকদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। ১৯৬৩ সালে তাদের মায়ের মৃত্যুর সময়ও তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল। জুয়ানিতা বলেন, তার ভাই সস্তা স্লোগান দিয়ে মানুষের মন কেড়েছিলেন। বলেছিলেন, মুক্তির সঙ্গে অন্নের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু অন্য কিউবানদের মতোই তিনিও তার ভাইয়ের দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন। এদিকে জুয়ানিতা এল নুয়েভো রেলাল্ডকে বলেন, ‘গুজব ছড়াচ্ছে যে আমি তার শেষকৃত্যে যোগ দিতে কিউবার উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে, আমি আর কখনোই দ্বীপটিতে ফিরে যাব না। আমার এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কারও মৃত্যুতে আনন্দিত হই না। ফিদেলের বোন হিসেবে এমন একজন মানুষকে হারিয়েছি, যার সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক।’ ১৯৩৩ সালে জন্ম নেয়া জুয়ানিতা কাস্ত্রো পরিবারের একমাত্র সদস্য, যিনি কিউবায় কমিউনিস্ট শাসনের বিরোধিতা করেন। তার ভাই পাঁচ দশক ধরে দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের নেতৃত্ব দেন।

No comments:

Post a Comment