Wednesday, November 2, 2016

সেই এজাহার মিয়ার ছেলে বদি

সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় অবশেষে দণ্ড হলো কক্সবাজারের প্রতাপশালী সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির। অনেকটা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকা বদি বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছেন। কখনও মাদকের নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগে, কখনও বা সাংবাদিক পেটানোর দায়ে। গাছে বাসা বানিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন এই বদি। বদির বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসারও অভিযোগ রয়েছে। শুধু বদি-ই নন, তার ভাই-বেয়াই, মামা-ভাগ্নেসহ পরিবারের অন্তত ১০ জন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বদির কাজকর্মে অনেকেই চমকে ওঠেন, তার পরিবারের উত্থান তারচেয়েও কম চমকপ্রদ নয়। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় বদিকে 'হীরক রাজা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। ক'দিন আগে নিজ ফেসবুক পাতায় বদিকে নিয়ে 'হীরক রাজার গল্প' শিরোনামে বিশাল এক স্ট্যাটাস দেন এই ছাত্রলীগ নেতা। বদিদের আদি বাড়ি মিয়ানমারে। তার বাবা 'এজাহার মিয়া কোম্পানি'র জন্মও সেখানেই। জন্মসূত্রে তিনি ছিলেন রোহিঙ্গা। ছাত্রলীগ নেতার তথ্য থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে বদির বাবা নাফ নদীর তীরে এসে বসতি গড়েন এবং শুরু করেন স্বর্ণ চোরাচালানের ব্যবসা। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসার নিয়ন্ত্রক। চোরাচালান ব্যবসার পাশাপাশি এজাহার মিয়া কোম্পানি টেকনাফ শহরে ‘নিরিবিলি’ নামের একটি হোটেল খুলে বসেন। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় আরো লেখেন, ১৯৭৮ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান টেকনাফ সফরে আসলে এজাহার মিয়া কোম্পানির হোটেলে আতিথেয়তা গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এই ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে এজাহার কোম্পানি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং তার হাত ধরেই টেকনাফে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এজাহার মিয়া কোম্পানি ছিলেন টেকনাফ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এই ছাত্রলীগ নেতার দাবি, টেকনাফ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও তৎকালীন শীর্ষ চোরাচালানকারী এজাহার মিয়া কোম্পানি’র হাত ধরেই পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতিতে বদির হাতেখড়ি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বদি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপক চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে হেরে যান। একই বছরের ১২ জুনের নির্বাচনে বিএনপির থেকে মনোনয়ন পেলেও পরে তা ফিরিয়ে নেয়া হয়। এরপর তিনি বিএনপির ছত্রছায়ার টেকনাফ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কয়েক বছর পর দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে তিনি যোগ দেন আওয়ামী রাজনীতিতে। বাগিয়ে নেন মনোনয়ন, বনে যান আইনপ্রণেতা। সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বদিকে বুধবার তিন বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। দুদকের করা মামলায় বুধবার দুপুরে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার ওই রায় দেন।

No comments:

Post a Comment