Thursday, November 17, 2016

সন্তানদের উপদেষ্টা বানাবেন ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কয়েকজন আত্মীয় তার নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এবার তার ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পর্কিত টিমেও রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তারা কি ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পদে বসবেন? তবে সেটির কতটুকু আইনি বৈধতা রয়েছে- এ নিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।
ট্রাম্পের ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ক টিমের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার সন্তানদের জন্য শীর্ষ নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন অনুভব করছেন না। এজন্য অফিসিয়ালি কোনো পেপারও প্রস্তুতও করেননি তিনি। নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার জন্য ইভানকা ট্রাম্প, এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ পেতে পারেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে পিতার প্রশাসনে তাদের কোনো অফিসিয়ালি ভূমিকা থাকবে কিনা এটা এখনও অস্পষ্ট।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার তিন সন্তান ও ইভানকার স্বামী জারেদ কুশনার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হস্তান্তরবিষয়ক কমিটিতে থাকবেন। ইভানকা ও তার স্বামী জারেদ কুশনার ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ট্রাম্পের এ নিয়োগে তার ব্যবসায়িক রাজত্বে কাকে শীর্ষ স্থানে বসানো হবে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। হোয়াইট হাউসে ঢোকার আগে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের দায়িত্ব তিন সন্তানের হাতে দেবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। রোববার ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে ইভানকাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি বাবার প্রশাসনে দায়িত্ব নিতে চান কিনা। উত্তরে তিনি বলেন, না, আমি তার কন্যা হয়েই থাকব। এমনকি ট্রাম্পের মিত্ররাও তাই বলছেন। নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানি রোববার সিএনএনকে বলেছেন, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সন্তানরা তার উপদেষ্টা হচ্ছেন না।
ট্রাম্প তার ক্ষমতা হস্তান্তরবিষয়ক টিমে পরিবারের সদস্যদের নিয়োগের ব্যাপারে নমনীয় হলেও প্রশাসনে নিয়োগের বিষয়ে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যান্টি নেপোটজিম (স্বজনপ্রীতি বিরোধী) আইনের যুক্তরাষ্ট্র কোড ৫ ইউএসসি-৩১১০ অনুসারে, ট্রাম্প যে সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা যেখানে তার আইনগত অধিকার বা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেখানে কোন আত্মীয়কে নিয়োগ, চাকরি দান বা চাকরিতে সুপারিশ করতে পারবেন না। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশাসনে পরিবারের সদস্য নিয়োগের ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া পরিহারের উপায় বের করতে পারেন ট্রাম্প। যেমন, রাষ্ট্রীয় বেতন না নিয়ে তার সন্তানদের যে কোনো একজনকে নিয়োগ দিতে পারেন তিনি। এ ছাড়া সরকারের অন্য কোনো শাখায়ও ট্রাম্প তার সন্তানদের নিয়োগ দিতে পারেন বলে জানায় ওয়াশিংটন পোস্ট।
অ্যান্টি নেপোটজিম আইন-১৯৬৭ অনুসারে কোনো প্রেসিডেন্ট তার পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় পদে বসাতে পারেন না। এ আইন পাসের আগে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি তার ভাই রবার্ট কেনেডিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে তার স্ত্রী ও ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটনকে স্বাস্থ্য সংস্কার টাস্কফোর্সের প্রধান পদে নিয়োগের জন্য তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। পরে আদালত হিলারিকে নিয়োগ দেন। ট্রাম্প ক্ষমতায় বসলে ব্যবসা ও প্রেসিডেন্সি একসঙ্গে চালানো নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইতিহাসে কেউ এমন ঝুঁকি নেননি। সাবেক প্রেসিডেন্ট লেইন্ডন বি জনসন একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তার সম্পদ ট্রাস্ট করে দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জনসন ও তার স্ত্রী লেডি বার্ড কেটিবিসি টিভি স্টেশনেরও মালিক ছিলেন, যেটিকে বিক্রি না করেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখেছিলেন।

No comments:

Post a Comment