Thursday, November 24, 2016

মান্নানের জামিন আপিলে বহাল

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র এমএ মান্নানকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের করা আবেদন বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ খারিজ করে দেন। এর ফলে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে এমএ মান্নানের আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, মেয়র মান্নান তার বিরুদ্ধে থাকা অন্য সব মামলায় জামিনে আছেন। আজ এ মামলায় আপিল বিভাগ জামিন বহাল রাখায় তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। আদালতে মান্নানের পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। এর আগে গত ১৭ আগস্ট বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মান্নানকে তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুলও জারি করেন আদালত। মামলার বিবরণীতে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ ও দরিদ্র তহবিলে এক কোটি তিন লাখ আট হাজার ১৩২ টাকা আয় হয়।
এর মধ্যে ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৬ হজার টাকা ব্যয় করা হয়। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে যথাযথভাবে এই ব্যয় করা হয়নি বলে গত ১৩ জুন দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম জয়দেবপুর থানায় এ মামলা করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ওই মামলায় ১৯ জুন মেয়র মান্নানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র মান্নান প্রথম দফায় গ্রেফতার হন। পরে তাকে ২২টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সেসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভের পর চলতি বছর ২ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর চলতি বছর ১৫ এপ্রিল এমএ মান্নানকে আবার গ্রেফতার করে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। এছাড়া গতবছর আগস্টে অধ্যাপক এমএ মান্নানকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ২ মার্চ কারা মুক্তির পর গত ৩১ মার্চ এ সাময়িক বহিষ্কারাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এমএ মান্নান। তাকে দেয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ গত ১১ এপ্রিল ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পরে ১৩ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিমকোর্টে আপিল করলে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রাখেন। তিনি আদালতের নির্দেশে মেয়র পদ ফিরে পেলেও গত এপ্রিল মাসে ফের তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

No comments:

Post a Comment