ঝিরিঝিরি
বৃষ্টি, সঙ্গে দমকা হাওয়া। অন্য সময় হলে অনুশীলন পর্বটা জিমেই সীমাবদ্ধ
থাকত। কিন্তু বৃষ্টি উপেক্ষা করে বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন মেসি। অন্য কিছু
ভাবার সময় যে তার নেই। যেভাবেই হোক আর্জেন্টিনাকে জেতাতেই হবে পরের ম্যাচে।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচের আগে সব ভুলে অনুশীলনে ডুবে আছেন
আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। বৃষ্টিতে ভিজে, ঠাণ্ডা হাওয়ার ঝাপটা গায়ে মেখে বন্ধুর
পথে চলার প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন মেসি। আগের ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে হেরে
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভীষণ বেকায়দায় রয়েছে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকা
অঞ্চলের বাছাইপর্বের বাকিটা পথ এখনও বেশ দীর্ঘ। সাত ম্যাচ বাকি। তবুও
প্রশ্ন উঠে গেছে, ২০১৮ বিশ্বকাপে যেতে পারবে তো আর্জেন্টিনা? নেইমারদের
বিপক্ষে সেদিন কিছুই করতে পারেননি মেসি। পরের ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে জেতাতে
হলে তাকে যে চেনা চেহারায় ফিরতে হবে সেটা খুব ভালো করেই জানেন মেসি। এজন্যই
অনুশীলনে এতটা একাগ্র তিনি। ব্রাজিলের মাঠে ৩-০ গোলে চূর্ণ হওয়ার
দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে নিজেদের
মাঠে টিকে থাকার লড়াইয়ে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
একইদিনে সকাল
৮টা ১৫ মিনিটে অ্যাওয়ে ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামবে দুর্ধর্ষ ফর্মে
থাকা ব্রাজিল। ১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের শীর্ষে
রয়েছে ব্রাজিল। নতুন কোচ তিতের অধীনে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসে
ফুটছে সেলেকাওরা। অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও লিমায় ফেভারিট হিসেবেই নামবেন
নেইমাররা। পেরুকে হারাতে পারলে রাশিয়ার টিকিট কার্যত তাদের মুঠোয় চলে আসবে।
অঘটন ঘটলেও বড় কোনো ক্ষতি হবে না। ইতিহাস বলছে, লাতিন আমেরিকা থেকে সরাসরি
বিশ্বকাপে যেতে ২৮ পয়েন্টই যথেষ্ট। সেই হিসাবে বাকি সাত ম্যাচ থেকে আর চার
পয়েন্ট পেলেই চলবে ব্রাজিলের! তবে মেসিদের জন্য সমীকরণটা মোটেও সহজ নয়। ১১
ম্যাচে মাত্র চার জয় আর চার ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে আছে আর্জেন্টিনা।
যেখানে প্লে-অফে ফেলার সুযোগ পেতেও শীর্ষ পাঁচে থাকতে হবে। তবে
আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তির ব্যাপার হল, একটি জয়ই পয়েন্ট টেবিলের চিত্র
উল্টে-পাল্টে দিতে পারে। তিনে থাকা কলম্বিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার ব্যবধান
মাত্র দুই পয়েন্ট। চার ও পাঁচে থাকা ইকুয়েডর ও চিলি এগিয়ে মাত্র এক
পয়েন্টে।
নিজেদের আঙিনা সান হুয়ানে জেমস রদ্রিগেজ ও ফ্যালকাওয়ের কলম্বিয়াকে
হারাতে পারলে রাতারাতি শীর্ষ চারে ফিরতে পারে আর্জেন্টিনা। সেজন্য বাকি
ম্যাচগুলোর ফলও মেসিদের অনুকূলে থাকতে হবে। উরুগুয়ের বিপক্ষে চিলি এবং
ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে ইকুয়েডর পয়েন্ট হারালে, একটি জয়ই আর্জেন্টিনাকে তুলে
দেবে তিনে! অস্বস্তির ব্যাপারটা হল, ঘরের মাঠে হারলে এবং অন্য ম্যাচগুলোর
ফল বিপক্ষে গেলে আর্জেন্টিনা নেমে যাবে আটে। টানা চার ম্যাচে জয়হীন
আর্জেন্টিনার হারার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। দুঃসময়ের ছোবল
তাদের আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দিয়েছে। কোচ এদগার্দো বাউজা অবশ্য বিশ্বকাপে
যাওয়া নিয়ে একেবারেই শংকিত নন, ‘বিশ্বকাপে যাওয়া নিয়ে আমার মনে কোনো সংশয়
নেই। অনেক পয়েন্ট হারালেও এখনও আমাদের ভাগ্য আমাদের হাতেই আছে। আমাদের
খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে শক্ত। পরের ম্যাচটা আমরা ভালো খেলেই জিততে চাই।
আমাদের খেলায় ধারাবাহিকতার যে অভাব রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। এজন্য
সান হুয়ানে সমর্থকদের পাশে চাই আমরা।’ ওয়েবসাইট।

No comments:
Post a Comment