দিনাজপুরের
পার্বতীপুরে ধর্ষণের শিকার সেই
শিশুর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের
(ঢামেক) শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আশরাফুল হক কাজল।
সোমবার দুপুরে ওই শিশুর যৌনাঙ্গে অস্ত্রোপচার শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান
তিনি। আশরাফুল হক কাজল জানান, সকাল ৯টায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।
প্রায় আড়াই ঘন্টায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।
অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে জানিয়ে তিনি জানান, শিশুটির এ অস্ত্রোপচারের নাম
দেয়া হয়েছে রিকনস্টাকটিভ অপারেশন। পেডিয়াট্রিক, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক,
ইউরোলজি এবং গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা এ অপারেশনে অংশ নেন। চিকিৎসকরা
জানিয়েছেন, এ অপারেশনটি গত ২৬ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিশুটির
যৌনাঙ্গে নানা রকম ইনফেকশন থাকায় তা তখন করা সম্ভব হয়নি।
এতদিন চিকিৎসার পর
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অস্ত্রোপচারের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করলে
আরেকটু ভালো হতো। কিন্তু শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং মূত্রথলি ফুটো হয়ে
গেছে। প্রতিনিয়ত মূত্র পড়ছে। পোশাক-বিছানা ভিজে যাচ্ছে। এ কারণে দ্রুতই এই
অস্ত্রোপচার করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী উপপরিচালক
(প্রশাসন) ডা. খাজা আবদুল গফুরও অস্ত্রোপচারের বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত
করেছেন।
শিশুটির বাবা যুগান্তরকে বলেন, আজ আমার মেয়ের প্রথম অস্ত্রোপচার হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। আমি দেশবাসীর কাছে আমার মেয়ের
সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি। উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর পার্বতীপুর
উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের জমিরহাট তকেয়াপাড়া গ্রামের সুবল চন্দ্র দাসের ৫
বছর বয়সী শিশুকন্যা খেলার সময় বেলা ১১টার দিকে নিখোঁজ হয়। বিকাল পর্যন্ত
তার কোনো খোঁজ না পেয়ে গ্রামের মসজিদ থেকে ও আশপাশের গ্রামে মাইকিং করা হয়।
পরদিন ১৯শে অক্টোবর ভোর ৫টায় সুবলের বাড়ির ২০০ গজ দক্ষিণে জনৈক ইসাহাক
আলীর বাড়ির পাশের হলুদ ক্ষেত থেকে ক্ষতবিক্ষত ও অজ্ঞান অবস্থায় শিশুটিকে
উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম নামের (৩৮) এক প্রতিবেশীকে আটক করে
সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর
নির্দেশ দেয়।

No comments:
Post a Comment