Tuesday, November 22, 2016

তুলার বিশ্ব মজুদ কমার আশংকা

গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে তুলার মজুদ সর্বনিন্ম স্তরে নেমে আসতে পারে। চলতি ২০১৬-১৭ উৎপাদন মৌসুমেই এই সর্বনিন্ম মজুদের আশংকা করা হচ্ছে। ওদিকে মজুদ কমার ঝুঁকি থাকায় বিশ্ববাজারে বেড়ে যেতে পারে পণ্যটির দামও। এর ফলে তুলার অন্যতম ভোক্তা দেশগুলোর আমদানি খরচ বাড়বে। তুলার বিশ্ব মজুদ পরিস্থিতি বিষয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইসিএসি)।
সংস্থাটির নভেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আশংকা প্রকাশ করা হয়। এতে দাবি করা হয়, চলতি মৌসুমে বৈশ্বিক তুলার উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে কমতে পারে ১ লাখ ৪০ হাজার টন। ফলে বৈশ্বিক তুলার মজুদ কমে ২০১৬-১৭ মৌসুমে তা ১ কোটি ৮০ লাখ টনের নিচে নেমে যেতে পারে। এটি ঘটলে তা হবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম মজুদ। যা তুলার বিশ্ববাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে। ২০১৫-১৬ মৌসুম শেষে এ মজুদ দাঁড়ায় ১ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার টন। এর আগের মৌসুমে পণ্যটির মজুদ ছিল ২ কোটি ২২ লাখ টন। আইসিএসি আরও পূর্বাভাস দিয়ে বলেছে, এর ফলে ২০১৬-১৭ মৌসুমে বৈশ্বিক তুলার দর পাউন্ডপ্রতি ১ সেন্ট বেড়ে ৭৪ সেন্টে লেনদেন হতে পারে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে একই পরিমাণ পণ্য ৭০ সেন্টে বিক্রি হয়েছিল। অন্যদিকে ২০১৪-১৫ মৌসুমে প্রতি পাউন্ড তুলা ৭১ সেন্টে বিক্রি হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তুলার অন্যতম ভোক্তা দেশ চীন। দেশটির বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমায় সরকারিভাবে মজুদে থাকা তুলা বিক্রি হচ্ছে। আইসিএসির তথ্যমতে, চলতি বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মজুদে থাকা ২০ লাখ টন তুলা বিক্রি হয়েছে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে চীনে ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ লাখ টন তুলা মজুদের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যা হবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম মজুদ। মজুদ কমায় চলতি মৌসুমে চীনে তুলা আমদানি থাকবে বাড়তির দিকে। আইসিএসির পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০১৬-১৭ মৌসুমে চীন ৯ লাখ ৮০ হাজার টন তুলা আমদানি করতে পারে, যা আগের মৌসুমের চেয়ে ২০ হাজার টন বেশি। গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনে পণ্যটির আমদানি থাকবে বাড়তির দিকে, যা বিশ্বব্যাপী পণ্যটির লেনদেন বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।

No comments:

Post a Comment