Tuesday, November 22, 2016

বিদ্যুৎ পাবে সাড়ে ৯ লাখ নতুন গ্রাহক

বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসছে সাড়ে ৯ লাখ নতুন গ্রাহক। বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সারা দেশে ২০১৯ সালের মধ্যে এসব গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হবে। এ জন্য দুটি পৃথক প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৮১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ হিসেবে দেবে ৩ হাজার ৯১৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। বাকি টাকা সরকারি তহবিল ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য জুয়েনা আজিজ কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে জানান, বাস্তবায়িত হলে এসব প্রকল্প গ্রামীণ জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়,
সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গ্রামীণ জীবনের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে পল্লী বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে আসছে। এ দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে পুরনো, জরাজীর্ণ ও ওভারলোডেড বিতরণ লাইনের পুনর্বাসন, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা হবে। ফলে বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস কমিয়ে আনার মাধ্যমে ৭৮টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্ষমতা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার লাইন ও ৭০ লাখ নতুন গ্রাহককে সংযোগ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এ দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন লাইন নির্মাণ এবং পুরনো লাইন সংস্কার করা হবে। ফলে ৯ লাখ ৫০ হাজার নতুন গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন। তাই প্রকল্পটি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
সূত্র জানায়- ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জন্য হাতে নেয়া হচ্ছে বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতা বর্ধন, পুনর্বাসন ও নিবিড়করণ শীর্ষক প্রকল্পটি। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৪০৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে এডিবি ঋণ দেবে ২ হাজার ৪৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতাভুক্ত চার বিভাগের ৪২টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় এটি বাস্তবায়িত হবে। ফলে বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে, বিতরণ লাইনের উন্নয়নের মাধ্যমে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ, সিস্টেম লস কমানো এবং শিল্পায়ন, সেচ, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্বাক্ষরতা সুবিধা জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- ৬ হাজার ৪৬৫ কিলোমিটার ১১ কেভি নতুন লাইন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ২০ হাজার ৫৩৫ কিলোমিটার বিতরণ লাইনের ক্ষমতাবর্ধন, ৫ লাখ নতুন গ্রাহককে সংযোগ প্রদান এবং ১১ হাজার ৬১৯ বর্গমিটার আবাসিক বিল্ডিং তৈরি করা হবে। অন্যদিকে বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতায়ন, পুনর্বাসন ও নিবিড়করণ (রাজশাহী,
খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগ) শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৭৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে এডিবির ঋণ ১ হাজার ৮৭১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাকি টাকার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ২০১ কোটি ৭৬ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ৪ লাখ ৫০ হাজার নতুন গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন। সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রক্রিয়াকরণ শেষ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ১১ কেভি ভোল্টেজের নতুন লাইন নির্মাণ, ১৮ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইনের ক্ষমতা বৃদ্ধি বা পুনর্বাসন, ১৪ হাজার ৭২৫ বর্গমিটার অফিস ভবন এবং ১৮ হাজার ৫২৩ বর্গমিটার আবাসিক বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে।

No comments:

Post a Comment