যুক্তরাষ্ট্রে
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ বিস্তৃতি পাচ্ছে। দেশটিতে শনিবারেও বড় ধরনের
প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কে
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণ ছিল বলে দাবি করেছেন
আয়োজকরা। গত ৮ নভেম্বর মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর থেকে
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। দিন দিন এর আকার
বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ শনিবার নিউইয়র্কের ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে হাজার
হাজার লোক অংশ নেন। এছাড়া ফেসবুকে চলমান এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য প্রায়
১০ হাজার লোক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে শুক্রবার ট্রাম্পবিরোধী
কর্মসূচিতে গুলি ও একজন আহত হওয়ার ঘটনা আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে। বিভিন্ন
শহরে শুরু হয়েছে সহিংস বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা ট্রাম্পের
বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদে লড়াই চালিয়ে যাবেন। আগামী জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথের
আগে ‘মিলিয়ন ম্যান প্রটেস্ট’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। স্থানীয়
গণমাধ্যম জানায়, মধ্যরাতের পর ওরেগনের সবচেয়ে বড় শহর পোর্টল্যান্ডে একদল
বিক্ষোভকারী মরিসন ব্রিজ অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির গুলিতে
এক বিক্ষোভকারী আহত হন।
শনিবার এক
বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, ‘বিক্ষোভকারীরা সেতুটি অতিক্রম করার সময় সেখানে আটকে
পড়া গাড়িগুলোর কোনো একটি থেকে এক ব্যক্তি নেমে গুলি চালায়।’ আহত
বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে
পুলিশ। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর খোঁজ চলছে। এদিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে
সংঘর্ষের পর আগের রাতেই পোর্টল্যান্ডে দাঙ্গা পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিল
পুলিশ। এদিন রাতেও বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু
ছুড়ে মারে। জবাবে টিয়ার গ্যাস ও ফ্লাশ গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ।
নিউইয়র্কের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান
দেন। তাদের বহনকৃত প্ল্যাকার্ডে লিখা ছিল- 'আমাদের প্রেসিডেন্ট নও',
'রাস্তা কার, আমাদের', 'প্রতিবাদ চলবে' সহ নানা ধরনের বক্তব্য।
প্রতিবাদকারী নেতারা বলেন, আমরা নাগরিক অধিকার, নারী অধিকার, শান্তিপূর্ণ
পরিবেশ এবং বিশ্ব শান্তির জন্য আন্দোলন করছি। অন্যদিকে শিকাগো ও লস
অ্যাঞ্জেলেসে সমান তালে ট্রাম্পবিরোধী কর্মসূচি বেগবান হচ্ছে। লাস
অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় ৬ হাজার লোক ট্রাম্পবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

No comments:
Post a Comment