Wednesday, November 2, 2016

দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি হুশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন বাকি। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে প্রধান দুই দলের প্রার্থী একে অপরকে নিয়ে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের তীর ছুড়েছেন। সোমবার ওহাইও রাজ্যে এক সমাবেশে রিপাবলিকান প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমার বোতাম যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে না যায়। পরমাণু শক্তির কোড বহন করার যোগ্য তিনি নন। ‘অন্যদিকে হিলারির ইমেইল তদন্ত নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ককে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘হিলারি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক সংকট দেখা দেবে।’ হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত সার্ভারে ইমেইল চালাচালি নিয়ে নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এতে ডেমোক্রেটিক দল এফবিআই’র বিরুদ্ধে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছে। ওহাইওর সমাবেশে হিলারি বলেন, আমি নিশ্চিত আপনাদের মধ্যে অনেকে হয়তো আমার কাছে জানতে চাইবেন নতুন এসব ইমেইলে কী আছে।
জানতে চাইবেন নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এফবিআই কেন নির্বাচনে জড়িয়ে পড়েছে। এটা একটি চমৎকার প্রশ্ন। হিলারি বলেন, আমি জানি আপনারা সচেতন। আমি স্বীকার করি এটা একটা ভুল ছিল। এখন তারা আমার স্টাফদের একজনের পিছু নিয়েছে। এর আগে তারা একবার তদন্তে যা পেয়েছিল, আমি নিশ্চিত এবারও তারা তা-ই পাবে। এর মধ্যে কোনো গোপন কিছু নেই। ট্রাম্পকে বিদ্রুপ করে হিলারি আরও বলেন, তিনি পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে কোনো পরামর্শ করেন না। কারণ, তিনি ব্রিলিয়ান্ট ব্রেনের অধিকারী। আমাদের জেনারেলদের চেয়ে তিনি আইএস সম্পর্কে বেশি ভালো জানেন বলে দাবি করেছেন। আসলে তিনি জানেন না। ট্রাম্প চাইছেন আরও মানুষের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক। কল্পনা করুন মধ্যপ্রাচ্যে এমন অস্ত্রের বিষয়টি। তিনি দর্শকদের বলেন, ট্রাম্পকে কি আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রের কমান্ডার, জীবন ও মৃত্যুর বিষয়ে বিশ্বাস করা যায়? তিনি কীভাবে সংকট মোকাবেলা করবেন? আমাদের মিত্র ও শত্রুদের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে কি তিনি জানেন? হিলারি বলেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের কোড বা চাবি যেখানে কখনও তার কাছাকাছি হওয়া উচিত নয় ট্রাম্পের।
কারণ, তিনি পারমাণবিক যুদ্ধের বিষয়ে তোয়াক্কা করেন না। অন্যদিকে, সোমবার মিশিগানের গ্রান্ড ব্যাপিডসে একটি জনসভা করেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় হিলারি ক্লিনটনকে দেশের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, হিলারি যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে সংকট ঘিরে ধরবে যুক্তরাষ্ট্রকে। তিনি যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন তার পুরোটা সময় তার ইমেইল তদন্ত ছায়া ফেলবে প্রশাসনে। ট্রাম্প আরও বলেন, ইমেইল কেলেংকারির জন্য হিলারি ক্লিনটনকে ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। পুলিশি তদন্তে থাকা অবস্থায় তাকে নির্বাচিত করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। এফবিআইর ‘দ্বৈত নীতির’ সমালোচনা হিলারি শিবিরের : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে গোয়েন্দা সংস্থা দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছে ডেমোক্রেটিক দল। দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা শিবির এফবিআই পরিচালক জেমস কমের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, তিনি ‘স্পষ্ট দ্বৈত নীতি’ নিয়েছেন। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতে হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইল নিয়ে নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন কমে। এ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। খবর বিবিসির। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, হিলারির ই-মেইল হ্যাকিংসহ মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ জনসম্মুখে প্রকাশ করার বিরোধী কোমি। নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে রুশবিষয়ক তথ্য প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে কোমির উদ্বেগ রয়েছে।
তবে এফবিআই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দারা নিশ্চিত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার লক্ষ্যে দেশটির রাজনৈতিক সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল চুরি ও ফাঁসের নির্দেশ রাশিয়া সরকার দিয়েছে। কোমিও এর সঙ্গে একমত। তবে তিনি নির্বাচনের আগে তা প্রকাশ্যে বলার বিরোধী। অভিযোগ উঠেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে ডেমোক্রেটদের লক্ষ্যে পরিণত করেছে রুশ হ্যাকাররা। হিলারির প্রচার শিবিরের ব্যবস্থাপক রবি মুক বলেন, এফবিআইর দ্বৈত অবস্থান স্পষ্ট। তিনি অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও হিলারির সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করেছেন ঠিক একই ধরনের অবস্থান ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি করার জন্যও কোমির প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এফবিআই পরিচালক জেমস কমে শুক্রবার কংগ্রেসকে এক চিঠিতে বলেন, হিলারির আরও কিছু ই-মেইলের খোঁজ পাওয়ায় এফবিআই নতুন করে তা তদন্ত করবে। হিলারির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হুমা আবেদিনের সাবেক স্বামী অ্যান্থনি ওয়েনারের ল্যাপটপে ই-মেইলগুলো পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে প্রথম হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইল চালাচালির বিষয়টি ফাঁস হয়। এ সময় এফবিআই তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিল। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সংস্থাটি। এফবিআই বলেছে, হিলারির ই-মেইল ব্যবহারের পূর্ববর্তী তদন্তের সঙ্গে নতুন করে পাওয়া ই-মেইলের প্রাসঙ্গিকতা থাকতে পারে।

No comments:

Post a Comment