পাকিস্তানভিত্তিক
জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়্যবা তথা জামাত-উন দাউয়ার ‘মূল সমন্বয়ক’ হিসেবে
বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাকিস্তানি নাগরিক মোবাশ্বের শাহীদ ওরফে মুবিন
ওরফে ইয়াহিয়াকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর
চতুর্থ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত বোমা তৈরি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পৃথক
দুটি মামলা থেকে তাকে খালাস দেন। রোববার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার
(কেরানীগঞ্জ) থেকে মুক্তি পেয়েছে সে। এখন সে কোথায় আছে সে তথ্য কেউ জানেন
না। মুক্তি দেয়ার বিষয়টি পাকিস্তান দূতাবাসও জানে না। এভাবে মুক্তি দেয়ায়
বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দূতাবাস কর্মকর্তারা। তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি,
মোবাশ্বেরকে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই কারামুক্তি দেয়া হয়েছে। মামলার নথি
সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে জাল
টাকাসহ গ্রেফতার হয় পাকিস্তানি নাগরিক মোবাশ্বের।
তার স্থায়ী ঠিকানা সি-৯
শামসি সোসাইটি, ওয়্যারলেস গেট করাচি। গ্রেফতারের পর থেকে সে ঢাকা কেন্দ্রীয়
কারাগারে বন্দি ছিল। ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল আইনজীবী তহমীনা আক্তার হাসেমীর
জিম্মায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয় সে। পরদিন রাত ১১টায়
রাজধানীর চানখাঁরপুল থেকে আবারও তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় র্যাব-১০
জানায়, মোবাশ্বের গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে বাস করছে। সে জঙ্গিদের
প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কারাগার থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার একটি
আবাসিক হোটেলে জঙ্গিদের নিয়ে বৈঠক করে সে। অল্পের জন্য তার অন্য সহযোগীদের
গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুনরায় গ্রেফতারের পর সূত্রাপুর থানা পুলিশ
মোবাশ্বেরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, জাল টাকা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন,
২০০৯-এর ৬, ৮, ৯ ও ১০ ধারায় তিনটি মামলা করে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা
মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়্যবা তথা
জামাত-উন দাউয়ার মূল সমন্বয়ক হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করছে মোবাশ্বের।’ তার
বিরুদ্ধে দায়ের করা মোট চারটি মামলার মধ্যে জাল টাকার দুটি মামলায় ২০১৪
সালের ১ অক্টোবর খালাস পায় সে। বিস্ফোরক দ্রব্য ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে
দায়ের করা বাকি দুটি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত বৃহস্পতিবার
তাকে খালাস দেন। এর আগে বিদেশী আসামিদের মধ্যে দাউদ মার্চেন্ট, অনুপ
চেটিয়া, আইয়ুব খানসহ কয়েকজনকে নিজ নিজ অ্যাম্বাসির মাধ্যমে হস্তান্তর করা
হয়। কিন্তু মোবাশ্বেরের ব্যাপারে এ প্রক্রিয়া মানা হয়নি। জানতে চাইলে
মোবাশ্বেরের আইনজীবী তহমীনা আক্তার হাসেমী যুগান্তরকে বলেন,
‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস
দিয়েছেন। আসামি প্রত্যাবর্তনের (ফেরত পাঠানো) দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষ বা
সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বাসির। মোবাশ্বেরের মুক্তির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ আমাকে
কিছু জানায়নি। পাকিস্তানি অ্যাম্বাসির মাধ্যমে মোবাশ্বেরকে নিজ দেশে পাঠানো
হয়েছে কিনা তা জানি না।’ জানতে চাইলে পাকিস্তান অ্যাম্বাসির দ্বিতীয় সচিব
জামিল আক্তার খান যুগান্তরকে বলেন, ‘মোবাশ্বের শাহীদকে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে
কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। আমরা তার খোঁজ করছি। কিন্তু এখনও
পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাইনি।’ জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র
জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির যুগান্তরকে বলেন, ‘মোবাশ্বেরকে রোববার কারাগার
থেকে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তিনি বিদেশী নাগরিক (পাকিস্তানি) হওয়া সত্ত্বেও
সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বাসি বা আইনজীবীকে জানানো হয়নি। কারণ, বিদেশী নাগরিক
জামিন পেলে তখন জিম্মাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর যখন আসামি বেকসুর
খালাস পায়, তখন তাকে জিম্মাদারের কাছে দেয়া হয় না। মুক্ত করে দেয়া হয়।
আবার, যখন বিদেশী নাগরিক সাজাপ্রাপ্ত হয়, সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা হয়
আরপি (রিলিজ প্রিজনার)। তখন তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে
যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওইসব বিদেশীকে হস্তান্তর করা হয়। এক্ষেত্রে
মোবাশ্বের আরপি নন। ফলে আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বাসিকে জানানো হয়নি।’

No comments:
Post a Comment