Sunday, November 13, 2016

বিক্ষোভকারীরা কী চান?

যুক্তরাষ্ট্রের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কয়েকদিন ধরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ চলছে। নিউইয়র্ক থেকে আটলান্টা, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। মোটা দাগে তাদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কোথাও কোথাও আন্দোলন সহিংস রূপ নিচ্ছে। অরেগনের পোর্টল্যান্ডে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। সেখানে পুলিশ দাঙ্গা পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। এসব বিক্ষোভাকীরা কী চান? তাদের দাবি কি আদৌ পূরণ হবে? সিএনএন অবলম্বনে বিক্ষোভকারীদের পাঁচ দাবি তুলে ধরা হল।
‘ডাম্প ট্রাম্প’ (ট্রাম্পকে সরাও)
বুধবার রাতে সিয়াটলের উপশহরে ‘ডাম্প ট্রাম্প’ প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল বের করেন কয়েক হাজার মানুষ। এ স্লোগানের ব্যাখ্যা কী? রিপবালিকান দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রথম এ স্লোগান উঠেছিল। দলীয় নেতৃত্বের একাংশ ট্রাম্পকে প্রার্থী মনোনয়ন না দিতে এ প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তবে সেই পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে সরাতে আরেক ধাপ অগ্রসর হয়েছেন। তারা অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করে এবং ইলেক্টোরাল কলেজের কাছে চিঠি লিখে ট্রাম্পকে ভোট না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এটা কি সম্ভব? øুপস ডট কম নামের একটি ওয়েবসাইটের লেখায় বলা হয়েছে, ‘এটা হওয়া প্রায় অসম্ভব। ...যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে পুরোপুরি নজিরবিহীন অপ্রত্যাশিত ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য বদলে যাওয়ার মতো ঘটনা হবে এটি।’
‘সেতু বানাও, দেয়াল নয়’
ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসনবিরোধী প্রচারকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা এটা হতে দিতে চান না। আটলান্টায় বিক্ষোভে যোগ দেয়া ১৯ বছর বয়সী স্পেনসার স্মিথ বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি আমার অনিবন্ধিত বন্ধুদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য।’ মায়ামি শহরে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন, ‘সেতু বানাও, দেয়াল নয়।’ ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরির কথা বলেছিলেন। এ বিষয়টিকেই সামনে আনছেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু ট্রাম্পের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী এ দেয়াল কি আদৌ নির্মাণ হবে? ট্রাম্পের অভিবাসীবিষয়ক পরামর্শক ক্রিস কোরব্যাচ বলেন, ‘এটা যে নির্মাণ হবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কত তাড়াতাড়ি হবে এবং এর জন্য খরচ কে করবে।’
অবস্থান জানিয়ে দিলাম
বিক্ষোভকারীরা জানেন, ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণ করবেন ২০ জানুয়ারি। কিন্তু তাকে তারা জানিয়ে দিতে চান যে, নির্বাচনের ফলাফলে তারা খুশি নন। আর ঘটনাটি তারা মেনেও নেবেন না। আইওয়া শহরে বিক্ষোভকারীদের দুটি প্রধান উদ্দেশের কথা জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব আইওয়ার পিএইচডির ছাত্র রেচেল ওয়ালেরস্টেইন। এক. শ্বেতাঙ্গ ছাড়া অন্য মানুষ, অভিবাসী ও সমকামীদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো, দুই. ট্রাম্প যেন তার ১০০ দিনের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে না পারেন, সে জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা। রেচেল বলেন, ‘আমরা আমাদের এসব বক্তব্যকে সামনে নিয়ে আসতে চাই।’ আরেক বিক্ষোভকারী ডালিনা অ্যামি পারডেমো বলেন, ‘আমরা মূলত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই।’ ট্রাম্প প্রথমে বিক্ষোভকারীদের ভাড়াটে বললেও পরে অবশ্য তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন।
বিভেদ নীতি বদলাও
নিউইয়র্কে বিক্ষোভে অংশ নেয়া নিক ট্রুসেডেল বলেন, ‘তিনি ঘৃণাসূচক যা যা অতীতে বলেছেন এবং যা যা করার অঙ্গীকার করেছেন, তাকে সেসব থেকে সরে আসতে হবে।’ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই অবশ্য বলেছেন, তিনি তার অতীত বক্তব্যকে নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না। তবে তিনি চান জনগণ যেন ঐক্যবদ্ধ হয়। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন একটি দেশ চাই যেখানে সবাই সবাইকে ভালোবাসবে। আমি এর ওপরই গুরুত্ব দেব।’
‘তিনি আমাদের প্রেসিডেন্ট নন’
সারা দেশের বিক্ষোভকারীরাই এ স্লোগানটাই বেশি দিচ্ছে। আটলান্টায় বিক্ষোভের আয়োজকদের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমরা সম্মান করি না।’ বিক্ষোভের আয়োজন করে তাতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক বার্তায় লেখা হয়, ‘ট্রাম্প বা তার মতো কোনো নেতা, যারা আমাদের ভয়কে নিয়ে খেলেন, তাদের আমরা চাই না, যিনি মুসলমানদের নিষিদ্ধ করতে চান, তাকে আমরা চাই না, যিনি মেক্সিকানদের ধর্ষক বলেন, তাকে আমরা চাই না।’ বার্তায় আরও লেখা হয়, ‘ধর্ষণকামী সংস্কৃতিকে না বলুন, যিনি শ্বেতাঙ্গদের একাধিপত্যের কথা বলেন, তাকে না বলুন, যিনি আমাদের পরিবেশের ক্ষতি করার কথা বলেন, তাকে না বলুন।’

No comments:

Post a Comment