Tuesday, November 1, 2016

অনুমোদনহীন স্কুল ৯৯৮! চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলোভন, নজরদারিও নেই by নিজাম সিদ্দিকী

নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে উঠেছে নাম-সর্বস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে এগুলো। কিন্তু এ ব্যাপারে কারো কোনো নজরদারি নেই। অভিযোগ রয়েছে, চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট করে এগুলোতে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানো হয়। আর এসব স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের বাড়তি ফি আদায়ের সুযোগ কমে যাবে বলে ইচ্ছা করেই বোর্ডের নিয়ম-নীতিতে আবদ্ধ হতে চায় না।
নগরীর অননুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে প্রায় ৯৯৮টি অনুমোদনবিহীন উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। গত বছর এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা অংশ নিয়েছিল।
নগরীর জামালখান, চকবাজার, খুলশি, হালিশহর, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বেপারিপাড়া, পাঠানটুলী, মাদারবাড়ি, ঈদগাঁ, পাহাড়তলী, সরাইপাড়া, কৈবল্যধাম বিশ্বব্যাংক কলোনি, চান্দগাঁও সিডিএ আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে উঠেছে নামসর্বস্ব এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বহুতল ভাড়া বাড়িতে গড়ে ওঠা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই চলছে ছাত্রভর্তি ও পাঠদান। এমনকি কোনো কোনোটিকে আবাসিক সুবিধাও রাখা হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগেরই নামের সঙ্গে ‘স্কুল এন্ড কলেজ’ কথাটি যুক্ত রয়েছে।
সরেজমিনে এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একই এলাকায় পাশাপাশি অথবা একশ-দেড়শ গজ ব্যবধানে অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
জানা যায়, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করে। যেমন : আবাসন সুবিধা, শ্রেণীকক্ষে পড়াশোনা (কোনো গৃহশিক্ষকের প্রয়োজন নেই), নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সমৃদ্ধ পাঠাগার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা, বিনামূল্যে ল্যাপটপ ও বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য সরবরাহ ইত্যাদি। আর এসবেই সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছেন অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা। তাঁরা অন্য কিছু আর ভেবে দেখছেন না। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তাওয়াক্কুল ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজ, এসএস গ্রামার স্কুল, ক্যামব্রিজ স্কুল এন্ড কলেজ, শাইনিং সান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আগ্রাবাদ ন্যাশনাল একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ, অরবিট ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজ, উদয়ন, ভিক্টোরি ন্যাশনাল স্কুল, পোর্ট সিটি স্কুল এন্ড কলেজ, গ্লোবাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম স্কুল এন্ড কলেজ, এশিয়াটিক স্কুল এন্ড কলেজ, শাইন স্কলাস্টিক গ্রামার স্কুল এন্ড কলেজ, ওয়েস্টার্ন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, কৈবল্যধাম বিশ্ব ব্যাংক কলোনি আবাসিক এলাকা স্কুল ও কলেজ, ইউনাইটেড রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, সারজন স্কুল এন্ড কলেজ, গ্রিনল্যান্ড স্কুল এন্ড কলেজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামালখান এলাকার একজন অভিভাবক বলেন, স্কুলের পাঠদান পদ্ধতি, নিয়ম-কানুনের বিজ্ঞাপন দেখেই ছেলেকে ভর্তি করাই। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বোর্ডের অনুমোদন আছে। কিন্তু ভর্তির পরে জানতে পেরেছি আসলে তাদের কোনো অনুমোদনই নেই।
আগ্রাবাদ এলাকার অভিভাবক শফিকুল আলমের অভিযোগ, এসব স্কুল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করেই বোর্ডের অনুমোদন নেয় না। কারণ অনুমোদন নিলে তারা খেয়াল-খুশিমতো ফি আদায় করতে পারবে না। তাই তারা অনুমোদন ছাড়াই স্কুল পরিচালনা করে। বোর্ডের পক্ষ থেকে অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নজরদারির তেমন কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে চট্টগ্রাম বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়–য়া পূর্বকোণকে বলেন, অনুমোদন ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। এটা অনৈতিক। এটা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কারো জন্যেই মঙ্গলজনক নয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকে না। শিক্ষকেরাও তাদের উপযুক্ত সম্মানি পান না। অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

No comments:

Post a Comment