জাতিসংঘের
মহাসচিব পদ থেকে সদ্য বিদায়ী বান কি-মুন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার
ইঙ্গিত দিয়েছেন। চলতি ডিসেম্বরে বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাতিসংঘে বান
কি-মুনের মেয়াদ শেষ হয়। শুক্রবার জাতিসংঘে দেয়া সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে বান
কি-মুন জানান, এখান থেকে কিছুদিন বিশ্রামের পর তিনি দক্ষিণ কোরিয়াতে ফিরে
যাবেন। দেশে ফিরে জনগণের সর্বোচ্চ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন বলে জানান
তিনি। খবর বিবিসির। দক্ষিণ কোরিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে আগামী
বছরের ডিসেম্বরে।
তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইয়ের অভিশংসন
চূড়ান্ত হলে সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট
নির্বাচন হতে হবে। বান্ধবীর মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগে পার্কের বিরুদ্ধে
কয়েক সপ্তাহের নজিরবিহীন আন্দোলনের পর গত সপ্তাহে তাকে অভিশংসন করে সংসদ।
তবে এ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সাংবিধানিক আদালত থেকে। ছয় মাসের
মধ্যে আদালতকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। অভিশংসনের বিরুদ্ধে আইনি
লড়াইয়ে নেমে শুক্রবার দেশটির সাংবিধানিক আদালতে পার্কের আইনজীবীরা দাবি
করেছেন, ওই অভিশংসনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই। আদালতে ২৪ পৃষ্ঠার যুক্তি
উপস্থাপন করে পার্কের আইনজীবী লি জং-ওয়ান বলেন, 'পার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগের
কোনো প্রমাণ নেই। প্রেসিডেন্ট সংবিধান লংঘন করেছেন বলে আমরা মনে করি না...
অভিশংসন প্রস্তাবটি খারিজ করে দেয়া উচিত।' দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক
আদালতের নয়জন বিচারপতির ছয়জনকেই পার্ক নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যদি পার্কের
পক্ষ নেন তবে সংসদের অভিশংসন প্রস্তাব বাতিল হয়ে যাবে। দক্ষিণ কোরিয়ার
সংবিধান অনুসারে পার্ককে অভিশংসন করা হলেও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না
আসা পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন। তবে তার ক্ষমতা রহিত হয়ে গেছে। তিনি
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে থাকতে পারবেন এবং মাসিক বেতনও পাবেন। দেশটির ইতিহাসে
পার্কই প্রথম প্রেসিডেন্ট যার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তদন্ত শুরু
হয়েছে।

No comments:
Post a Comment