Thursday, December 29, 2016

এবার ব্যাটসমানদের পালা

প্রথম ওয়ানডেতে ৩৪১ রান দিয়ে বোলাররাই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে এসে নেলসনের স্যাক্সটন ওভারে সেই তারাই স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে ২৫১ রানে গুটিয়ে দিল। ফলে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয়ের জন্য করতে হবে ২৫২ রান। বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কখনও জেতেনি।
তামিম-সাব্বির-সাকিবরা আগের ম্যাচের ব্যাটিং সামর্থ দেখিয়ে এদিন ঐতিহাসিক জয় এনে দিতে পারেন কিনা, সেটিই এখন দেখার। সিরিজে ফেরার ম্যাচে বৃহস্পতিবার ভোরে (বাংলাদেশ সময়) টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাশরাফি। অবশ্য তাকে টাইগাররা মিডল-অর্ডারে নির্ভরতা প্রতীক মুশফিকুর রহিম এবং কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয়। এই দু'জনের সঙ্গে সৌম্য সরকারকে একাদশের বাইরে রাখায় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান, পেসার শুভাশীষ রায় ও স্পিনার তানভীর হায়দারের অভিষেক হয়। ফিল্ডিং নিয়ে টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি নিজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। প্রথম ওভারেই কোনো রান না দিয়ে ফেরান মার্টিন গাপটিলকে। মাশরাফির সঙ্গে দারুণ বল করতে থাকেন অভিষিক্ত শুভাশীষ ও তাসকিন। তবে দ্বিতীয় সাফল্য আসে তাসকিন আহমেদের হাত ধরে। দলীয় ৩৭ রানে তার বলে সাকিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। দলীয় ৪৭ রানে গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান টম ল্যাথামকে সাকিব এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। কিউইদের এই চাপ আরও বেড়ে যায়, দলীয় ৯৮ রানে। মোসাদ্দেক হোসেনের ঘূর্ণি বলে জেমস নিশাম স্ট্যাম্পিং হলে ভাঙে ৫১ রানের জুটি। দ্বিতীয় স্পেলে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মাশরাফি।
দলীয় ১০৭ রানে গত ম্যাচে ঝড় তোলা কলিন মুনরোকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। এরপরই মূলত একপ্রান্ত আগলে থাকা নিল ব্রুম উইকেটরক্ষক লুক রনকিকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দীর্ঘ ছয় বছর পরে দলে ফিরে দারুণ শতক তুলে ১০৯ রানে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। অবশ্য ব্রুম আর রনকির প্রতিরোধ ভাঙেন তাসকিন। দলীয় ১৭১ রানে রনকি তানভীরের তালুবন্দি হন। শেষদিকে লেজের ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত থাকলেও নিল ব্রুম একাই দলের রান আড়াশ' পার করেন। শেষ বলে টিম বোল্ট রানআউট হলে নিউজিল্যান্ড থামে ২৫১ রানে। কিউইদের পক্ষে ব্রুম ১০৭ বলে ৮ চার ৩ ছক্কায় সর্বোচ্চ ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন। আর রনকি ৩৫, নিশাম ২৮ ও ল্যাথাম ২২ রান করে করেন। বাংলাদেশের পক্ষে ৪৯ রানে ৩ উইকেট নেন মাশরাফি। আর সমান ৪৫ রান করে খরচা করলেও তাসকিন ও সাকিব ২টি এবং শুভশীষ একটি উইকেট পান। মোসাদ্দেক ১২ রানে নেন এক উইকেট।

No comments:

Post a Comment