Tuesday, December 27, 2016

অনিশ্চয়তায় এফবিসিসিআইর নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার

অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার কার্যক্রম। এখন পর্যন্ত নতুন নির্বাচন পদ্ধতি চূড়ান্ত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে পারেনি সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সংস্কার কমিটি। অন্যদিকে ঘনিয়ে আসছে আগামী নির্বাচন তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ। এ অবস্থায় আগামীতে সব পদে সরাসরি নির্বাচনের আশা ফিকে হয়ে আসছে সাধারণ সদস্যদের মনে। এর বহির্প্রকাশও দেখা গেছে এফবিসিসিআইর বার্ষিক সাধারণ সভায়। সব পদে সরকারি নির্বাচনের দাবি জোরদার করতে সাধারণ সদস্যরা এজিএমের দিন লিফলেট বিতরণ করে। এমনকি খোদ এফবিসিসিআই বর্তমান সভাপতিও সংস্কার নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।
জানা গেছে, বিএনপি সরকারের আমলে মনোনীত পরিচালক প্রথা পদ্ধতি চালু করা হয়। তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার ভাই চট্টগ্রাম চেম্বারের তৎকালীন পরিচালক আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীকে এফবিসিসিআই পরিচালক বানাতে মনোনীত পরিচালক প্রথা চালু করেন। সেটি এখনও টেনে নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমানে ৫২ পরিচালকের মধ্যে ১৮ জনই মনোনীত। এই বৃত্ত ভাঙতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এফবিসিসিআইর নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারে সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি সব পদে সরাসরি নির্বাচনের বিধান রেখে একটি খসড়া তৈরি করেছে, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় শীর্ষ ব্যবসায়ী পর্যায়ে এবং এফবিসিসিআইর বোর্ডসভায় আলোচনা হয়। চলতি মাসের শেষের দিকে অথবা আগামী বছরের শুরু দিকে নির্বাচন পদ্ধতির রূপরেখা জমা দেয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া এফবিসিসিআই থেকেও দুটি কমিটি গঠন করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সাধারণ সদস্য বলেন, এফবিসিসিআই এখন সরকারি দলের ব্যবসায়ী শাখা হয়ে গেছে। বিগত ৩ সভাপতি নির্বাচনের আগে তাদের ইশতেহারে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে এফবিসিসিআই সভাপতি নির্বাচন করার কথা বললেও কেউ কথা রাখেনি। বরং উল্টো করছে। নতুন নতুন সংগঠনকে সরাসরি পরিচালক পদ দিয়েছে।
এতে এফবিসিসিআইতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লিয়াজোঁর করার পথ সংকুচিত হচ্ছে। কারণ সাধারণ সদস্যদের প্রতি মনোনীত পরিচালকদের দায়বদ্ধতা থাকে না। এরা সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন। এ বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি শিগগিরই একই রূপরেখা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন। কিন্তু আল্টিমেটলি সংস্কার হবে কী হবে না সেটা নিয়ে সবাই চিন্তিত। কারণ তফসিল ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসছে। তবে সালমান এফ রহমান এটা নিয়ে সিরিয়াসলি কাজ করছেন। আশা করি, তার রূপরেখা সবাই মানলে ভালো একটা পরিবর্তন আসবে। এর মধ্যে সাধারণ সদস্যদের সব পদে সরাসরি নির্বাচনের দাবিও চলে আসবে। শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সংস্কার চায় না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংস্কার কে চায়, কে চায় না- সেটা বলতে পারব না। তবে আমি এটা চাই। তাই প্রথম মিটিং সংস্কার নিয়ে করেছি। হয়েছে। সংস্কার হলে সবাই খুশি হবে। আর মনে রাখতে হবে এ কালো আইনটি হয়েছিল বিএনপির আমলে। তাই এটা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। সাবেক এফবিসিসিআই নেতারা বলছেন,
সালমান এফ রহমানের ফর্মুলায় আগামী নির্বাচন হওয়া সম্ভব না। এর প্রধান কারণ তার ফর্মুলায় চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন করতে কমপক্ষে এক বছর লাগবে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর মে মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই ফর্মুলা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর বাণিজ্য সংগঠন আইনের আওতায় আদেশ জারি করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ন্যূনতম ৩ মাস সময় প্রয়োজন। এছাড়া শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষও সব পদে সরাসরি নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা উচ্চ পর্যায়ের লবিং করতে যাতে নতুন ফর্মুলা বাস্তবায়ন না হয়। সালমান এফ রহমানের ফর্মুলায় নির্বাচন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দেশের সব চেম্বারকে ১১টি এবং সমিতিগুলোকে খাতভিত্তিক ১৬টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বার গ্রুপ থেকে ৩০ জন করে মোট ৬০ জন হবেন এফবিসিসিআইর পরিচালক। মেয়াদ হবে ২ বছর। অঞ্চলভিত্তিক চেম্বার ও খাতভিত্তিক সমিতিগুলোতে একাধিক পরিচালক রাখা হয়েছে। এসব সংগঠনের সদস্যরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত করবেন। এ সভাপতিরাই এফবিসিসিআই পরিচালক হবেন। এই ৬০ পরিচালকের মধ্যে আগ্রহীরা সভাপতি, প্রথম সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি লড়বেন। বাকি পরিচালক ও যে বার যে গ্রুপ থেকে সভাপতি হবেন ওই গ্রুপের সংগঠনগুলোর সভাপতিরা ভোট দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি নির্বাচন করবেন। যদিও এই ফর্মুলা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতে এটি চূড়ান্ত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

No comments:

Post a Comment