বৈশ্বিক
প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিপূর্ণ
শিশুশ্রম বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। ‘দ্য রেসপন্সিবল কোবাল্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে
এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছে চীনা ব্যবসায়ী দল। এ দলে রয়েছে চায়নিজ চেম্বার
অব কমার্স ফর মেটালস ও মিনারেলস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড
এক্সপোর্টার্স। সহযোগিতা করছে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড
ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)। আর ‘দ্য রেসপন্সিবল কোবাল্ট ইনিশিয়েটিভ’ উদ্যোগের
পেছনে রয়েছে অ্যাপল, এইচপি, স্যামসাং, সনির মতো প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা
প্রতিষ্ঠান। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মূল উপাদান কোবাল্ট। এ ব্যাটারি ব্যবহার
হয় স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ইলেকট্রিক গাড়িতে। কোবাল্টের প্রায় ৬০ শতাংশ
উৎপাদন হয় কঙ্গোয়। সেখানকার ‘আর্টিসানাল’ শ্রমিকেরা হাতের সাহায্যে বিশেষ
কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই দৈনিক দুই ডলার পারিশ্রমিকে খনি থেকে কোবাল্ট সংগ্রহ
করেন। দ্য রেসপন্সিবল কোবাল্ট ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা ওইসিডি প্রণীত খনি
সরবরাহ শৃঙ্খলসংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলতে বাধ্য থাকবে।
সরবরাহ শৃঙ্খলের
আওতায় রয়েছে খনি থেকে কোবাল্ট উত্তোলন, পরিবহন, উৎপাদন ও বিক্রি। এ ছাড়া
প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো আইন লঙ্ঘনের বিষয় থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা
নেবে। কোবাল্ট খনিশ্রমিকদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁঁকিপূর্ণ ও
পরিবেশগত ক্ষতির অন্যতম কারণ, এ অভিযোগ অনেক দিন ধরেই করে আসছেন
বিশ্লেষকেরা। কিন্তু আফ্রিকা থেকে চীন সার্বিক ভোক্তাবাজারের জন্য কোবাল্ট
গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপলও বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহার করে
লিথিয়াম আয়নসংবলিত ব্যাটারি। অ্যাপল জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারকদের
সাথে কাজ করতে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে চরম দরিদ্রতার মতো বিষয় জড়িত।
চীনা ব্যবসায় সংস্থার নতুন উদ্যোগ গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন
বিশ্লেষকেরা। কোবাল্ট সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে গবেষণা করেছেন অ্যামনেস্টি
ইন্টারন্যাশনালের গবেষক মার্ক ডামেট। তিনি বলেন, অ্যাপল, স্যামসাংয়ের মতো
প্রতিষ্ঠানের উচিত কোবাল্ট স্মেল্টারদের নাম প্রকাশ করা। পাশাপাশি সরবরাহ
শৃঙ্খলে থাকা জটিলতাগুলোও জানানো দরকার। প্রযুক্তি খাত ছাড়াও অন্য অনেক
শিল্পেরও কোবাল্ট সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে অভিযোগ আছে।

No comments:
Post a Comment