গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমিতে বসতি গড়ে তোলা সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, ভাংচুর, আগুন ও গুলি করে তিন সাঁওতাল হত্যার ঘটনায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্যাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া সকাল ১০টায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেনের নেতৃত্বেও একটি তদন্ত টিম মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লীতে গেছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রধান গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্যাহ ঘটনা তদন্ত করতে সেখানে অবস্থান নেয়া সাঁওতালদের সঙ্গে কথা বলেন। সাঁওতালরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গত ৬ নভেম্বরের ঘটনা বর্ণনা করেন।
এসময় ইক্ষু খামারে সাঁওতালদের পুড়ে যাওয়া বসতবাড়ির কাঠসহ বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেন তিনি। গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্যাহ সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ব্যক্তিগত ছুটি সংক্ষিপ্ত করে ঘটনার তদন্ত শুরু করতে এসেছেন। সাঁওতালদের কাছ থেকে হামলার ঘটনার বর্ণনা শুনেছেন তিনি। তদন্ত কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত শেষে প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে পাঠানো হবে। একই দিন সকা ল১০টায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লীতে যান। প্রথমে তারা ক্ষতিগ্রস্ত মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম পরিদর্শন করে সাঁওতালদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে ওই টিম ইক্ষু খামারের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া বসতি এলাকাটি ঘুরে দেখেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় স্বপন মুরমু ও থোমাস হেমব্রমের দায়ের করার মামলার তদন্ত করতে তারা সাঁওতাল পল্লীতে এসেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

No comments:
Post a Comment