সদ্য অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বলে দাবি
করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএ। শুক্রবার প্রভাবশালী
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে নির্বাচনে রুশ
হস্তক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের ব্রিফিংয়ের বরাতে এ খবর জানানো হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে শীর্ষ মার্কিন সিনেটেরদের এক
রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে সিআইএ'র উদ্যোগে গোয়েন্দা তথ্য পেশ করা হয়। এতে
যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি গোয়েন্দা সংস্থার সবগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অধিবেশনে ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরে একটি
প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন একজন সিআইএ কর্মকর্তা। তবে এ প্রতিবেদনের বিষয়ে
কয়েকটি প্রশ্নের জবাব না মেলায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিষয়ে অন্য সংস্থার কিছু
কমকর্তা ভিন্নমত পোষণ করেন। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াশিংটন
পোস্ট ব্রিফিংয়ে জানায়, রাশিয়ার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন ব্যক্তিদের
চিহ্নিত করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এসব ব্যক্তি উইকিলিকসের হাতে
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটি এবং হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনীয়
প্রচারণা দলের প্রধানসহ অন্য সদস্যদের হাজার হাজার ইমেইল তুলে দিয়েছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বর্ণনা মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে ট্রাম্পকে
শক্তিশালী করতে এবং হিলারির বিজয়ের সম্ভাবনা হ্রাস করতে পরিচালিত রুশ
অভিযানের অংশ ছিলেন। একজন সিনিয়র সিআইএ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে
ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, তিনি ব্রিফিংয়ে সিনেটরদের বলেছেন এটি এখন
পুরোপুরি স্পষ্ট যে ট্রাম্পের বিজয় ছিল রাশিয়ার লক্ষ্য। তার দাবি, মার্কিন
গোয়েন্দারা মনে করছে রাশিয়া অন্য প্রার্থীদের চেয়ে একজন প্রার্থীর প্রতি
পক্ষপাত করে ট্রাম্পকে বিজয়ী হতে সাহায্য করেছে।
গত অক্টোবরে মার্কিন সরকার
আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছিল, ৮ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে
ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামাও বলেছিলেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে
সাইবার হামলার বিষয়ে হুঁশিয়ার করেছেন। তবে রুশ কর্মকর্তারা মার্কিন
নির্বাচনে হস্তক্ষেপের সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এদিকে সাইবার হামলার
নেপথ্যে রাশিয়ার থাকার বিষয়ে তিনি একমত নন বলে জানিয়েছে নবনির্বাচিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তার ক্ষমতাগ্রহণ পূর্ব
ট্রানজিশন টিম 'মার্কিন নির্বাচনে বিদেশী হস্তক্ষেপের দাবি' শীর্ষক একটি
বিবৃতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এদিকে রাশিয়া
ইমেইল হ্যাক করে উইকিলকসকে দিয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট কোনও গোয়েন্দা তথ্য
পাওয়া যায়নি। অন্য একজন সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে
জানিয়েছে, যারা ইমেইল হ্যাকিংয়ে জড়িত তারা রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা নয়,
তবে তারা সরকারের কাছ থেকে এক ধাপ দূরত্বে অবস্থান করে। এদিকে উইকিলিকসের
প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন,
হ্যাক করা ইমেইল পাওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সরকার তাদের সূত্র নয়।

No comments:
Post a Comment