Friday, December 23, 2016

বদলে যাবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জীবনযাত্রা

মোঃ সেলিম উদ্দিন, লামা প্রতিনিধিঃ বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে কৃষি, যোগাযোগ ও শিক্ষাক্ষেত্রসহ বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে কাজ করছে পার্বত্য চটটগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। প্রকৌশল শাখা যোগাযোগের উন্নয়নে রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্টসহ বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন ও সংস্কার করছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং, গীর্জার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষি ক্ষেত্রে সেচ নালা ও ড্রেন নির্মাণ এবং স্লুইস গেট নির্মাণের মতো কাজ করে জনগণের প্রশংসা অর্জন করে চলেছে তিন পার্বত্য জেলা ব্যাপি। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া থেকে মংপ্রুপাড়া রাস্তায় লামা খালের উপর ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের টেন্ডার আহবান করা হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পাঁচ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মেসার্স প্রসন্ন কান্তি আমু নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিক নির্মাণের কাজটি পায়। বর্তমানে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ প্রায়ই শেষ পর্যায়ে। চলছে এপ্রোচ এর কাজ। কাজ পুরোপুরি শেষ হলে রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি চারটি ওয়ার্ডে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগের পথ সুমম হবে। এতে পাল্টে যাবে জীবনযাত্রার মান। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ভূমিকা রেখে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রুপসীপাড়া বাজার থেকে মংপ্রুপাড়া রাস্তায় লামা খালের উপর নব্বই মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের বরাদ্দ দেয়া হয়। ব্রিজটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে রুপসীপাড়া ইউনিয়ন সদর থেকে বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডগুলোয় বসবাসকৃত পাহাড়ি বাঙ্গালিদের যোগাযোগের পথ সুগম হবে। পাশাপাশি এলাকার কৃষক ও জুমিয়া পরিবার তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতের ক্ষেত্রে আধুনিক সুযোগ পাবেন। এছাড়া উপজেলা সদরে উচ্চ শিক্ষা নিতে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের দুর্ভোগ লাগব হবে। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মজিদ, সাখাওয়াত হোসেন, আবদুস সত্তার ও খইহ্লাচিং মার্মা বলেন, এই ব্রিজের আশায় আমরা দীর্ঘকাল পার করেছি। আমরা এপার ওপারে বসবাসকারী পরিবারগুলো খাল পারাপারে বাশেঁর ছালি বা নৌকার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। বর্ষায় কতবার যে আমরা নৌকাডুবির শিকার হয়েছি তা বলে শেষ করা যাবে না। এ ব্রিজ নির্মাণের কারণে আজ আমরা আঁধার বাঁধন টুটে আলোয় পৌঁছতে চলেছি। এ ব্রিজ নির্মাণের ফলে আমাদের এলাকাকে আর কেউ দুর্গম বলতে পারবে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এই ব্রিজটি নির্মাণ করে আমাদের এলাকার জনগণের জীবনমান পাল্টে দিয়েছে। রুপসীপাড়া হাই স্কুলের শিক্ষক আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন কৃষক উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, এই ব্রিজ আমাদের এলাকার চেহারা পাল্টে দিয়েছে। এ ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়ায় উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলেন, এ ব্রিজ নির্মাণের ফলে এলাকার শত শত কৃষক পরিবারের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন উন্নত হবে, তেমনি কৃষিজাত পণ্যসামগ্রী বাজারজাত করতে সহজতর হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা আরো বেশি উপকৃত হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলে খালের  ওপার থেকে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসতে পারত না। এ ব্রিজ নির্মাণের ফলে ছাত্রছাত্রীদের যোগাযোগের পথ সুগম হয়েছে। স্থানীয় লিটনসহ আরও অনেকে জানান. বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কাজে বিদ্বেষী একটি চক্র উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রীর সুনাম ক্ষুন্ন করার মানসে এই ব্রিজটি নিয়ে বিভ্রান্তি ও অবাক করার মত গুজব ছড়িয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রাত দিন প্রচেষ্টায় ও উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগনের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্রিজের প্রতিটি নির্মাণ প্রক্রিয়া সতর্কতা এবং আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করা হয়। রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মার্মা বলেন, এলাকাবাসীর চাহিদা মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ব্রিজটি নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। এ ব্রিজ নির্মাণের ফলে এলাকায় সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আজিজ জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতি মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং মহদোয় ও উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নির্দেশনা মতে একদল দক্ষ প্রকৌশলী এ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছেন। এছাড়া আমি নিজেও সার্বিকভাবে নিভিড় মনিটরিং করে চলছি। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অনেক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, তার মধ্যে এই রুপসীপাড়া ব্রিজটি নির্মাণের মেয়াদ জুন ১৮ সাল পর্যন্ত। এলাকার জনগণের কষ্টের কথা ভেবে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০১৭ সালেই ব্রিজটি উদ্বোধন হবে।

No comments:

Post a Comment