প্রতিদিনের
আহারে শিশু সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে কি? এ নিয়ে প্রতিটি মা-বাবা চিন্তায় থাকেন,
কারণ পুষ্টির ওপরই নির্ভর করে শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা। শিশুর স্বাস্থ্য
সমস্যা, খাদ্য, পুষ্টি নিয়ে যুগান্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিশেষজ্ঞ ড. সাখাওয়াত আলম : জন্মের পর
থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শিশুরা শুধু মাত্র মায়ে দুধ খাবে। ৬-থেকে ১২ মাস
বয়সের শিশুদের বুকের দুধ হবে মূল খাদ্য। এর পাশাপাশি খিচুড়ি/সুজি ও
চটকানো ফল বা ফলের জুস দেয়া যেতে পারে। এসময় থেকে ডাল ও চালের খিচুরির
সঙ্গে মাছ, মাংস ও সবজি দেয়া যেতে পারে। ১২ মাস থেকে ২ বছরের শিশুরা বুকের
দুধের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবার খাবে। যেমন: মাছ, মাংস বা ডাল, দুধ, ভাত বা
রুটি, ফল-সবজি খাবে। বিশেষ করে কেলোরি, ভিটামিন, খণিজ-লবণ, পানি জাতীয়
খাবার খাবে। ২ থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুরা বড়দের মতো প্রায় সব খাবার খেতে
পারবে। বাড়ন্ত শিশুর বেলায় উন্নত প্রোটিন, আমিষের দিকে গুরুত্ব দেয়া
প্রয়োজন।
প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১.৫ থেকে ২ গ্রাম আমিষ দিতে হবে। শিশুর
জন্য ডাল, ছোলা, শিমের বিচি, মটর, চিনাবাদাম,
ছোট মাছ অত্যন্ত উপকারী। হাড়ের বৃদ্ধি এবং হাড় মজবুত করতে শিশুকে
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়াতে হবে। শিশুদের খাবারে ঘি, মাখন,
চর্বিও থাকতে হবে। বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং ছোট মাছ এসময় থেকেই শিশুকে খেতে
অভ্যস্ত করতে হবে। হাড়ের বৃদ্ধি এবং হাড় মজবুত করতে শিশুকে ক্যালসিয়াম
সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়াতে হবে। শিশুদের খাবারে ঘি, মাখন, চর্বিও থাকতে
হবে। শিশুর আদর্শ ওজন একজন সুস্থ শিশুর ওজন থাকা উচিত ৬ মাস থেকে ১ বছরে
৬-৮ কেজি, ২ থেকে ৩ বছরে ১২ থেকে ১৪ কেজি, ৪ থেকে ৫ বছরে ১৬ কেজি থেকে ১৮
কেজি, ৬ থেকে ৭ বছরে ২০ থেকে ২২ কেজি। এ ক্ষেত্রে ছেলে শিশু এবং মেয়ে শিশুর
ওজনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। শিশুর ওজন ৮০ শতাংশের কম হলে মোটামুটি
অপুষ্টি আর ৬০ শতাংশের কম হলে মারাত্মক অপুষ্টি শিকার বুঝতে হবে।

No comments:
Post a Comment