ভূমি
ও সাগর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে
নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম 'বাবর-২' নামে একটি ক্ষেপনাস্ত্রের উন্নত
সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ
পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বুধবার এ পরীক্ষা চালানোর কথা বলা হয়েছে।
তবে কোথায় এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি আইএসপিআর। খবর দ্য
ডনঅনলাইনের।
পরীক্ষা চালানোর সময় সেখানে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান
জেনারেল যুবায়ের মাহমুদ হায়াত, স্ট্র্যাটেজিক প্লান বিভাগের জ্যেষ্ঠ
কর্মকর্তা, স্ট্র্যাটেজিক বাহিনীর সদস্য এবং স্ট্র্যাটেজিক সংগঠনের
বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। জেনারেল যুবায়ের মাহমুদ বলেন,
'বাবরের সফল পরীক্ষা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিভাগের সামর্থকে আরও বৃদ্ধি
করল।' জম্মু ও কাশ্মীরের ঘটনা উত্তেজনার মুখে পাকিস্তান এই ক্ষেপনাস্ত্রের
পরীক্ষা চালাল। তবে বেশ দীর্ঘ সময় পরে এ পরীক্ষা করল দেশটি।
প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে অনেক কম অস্ত্রের পরীক্ষা করে থাকে পাকিস্তান।
ধারণা করা হয়, ভারত ২ দশমিক ৫ হারে পরীক্ষা চালানোর বিপরীতে পাকিস্তান একটি
পরীক্ষা চালিয়ে থাকে। ২০০৫ সালে পাকিস্তান প্রথম মাঝারি রেঞ্জের 'বাবর'
নামে সাবসনিক ক্রুস ক্ষেপনাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। বুধবার চালানো
'বাবর-২' সেটির আপগ্রেট ভার্সন এবং আরও বেশি নিখুঁতভাবে শত্রুপক্ষের
লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
আইএসপিআর জানায়, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে,
বাবর-২ ক্ষেপনাস্ত্রে আগের চেয়ে সব ধরনের অস্ত্রের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা
হয়েছে। এটি আরও বেশি ক্ষীপ্রতর এবং নিখুঁত। এতে অ্যাডভ্যান্সড
অ্যাক্রোনমিকস এবং এভিওনিকস প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে করে ভূমি
এবং সাগর থেকে সমানভাবে লক্ষবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হানতে পারে। বাবর-২
প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরের বস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি ডিজিটাল
স্ক্রিনের সমন্বয়ে ভূমির সীমানা চিহ্নিতকরণ (টেরিকম) ও এলাকা সংযুক্তকরণ
প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বাবর-২ আনবিক বোমা বহনে সক্ষম এবং গতানুগতিক ওয়ারহেড রয়েছে। সবমিলে প্রায় ৩০০ কেজি বহনে সক্ষম।
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় ক্ষেপনাস্ত্র চুক্তিতে
ব্যালেস্টিক মিসাইলের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এজন্য ক্রুস ক্ষেপনাস্ত্র
পরীক্ষার বিষয়টি ভারতকে অবহিত করেনি পাকিস্তান।

No comments:
Post a Comment