একদিনে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে রাশিয়ায়
ভ্লাদিমির পুতিন। দৃশ্যত দু’জনের মধ্যে মতের মিল রয়েছে। নির্বাচনী
প্রচারণার সময় পুতিনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ট্রাম্পের
প্রশংসা করেছেন পুতিন। তিনি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প জিতেছেন, যদিও
কেউই বিশ্বাস করেন না যে, আমাদের (সাহায্য) ছাড়া তিনি বিজয়ী হতে পারেন। দুই
পরাশক্তি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ। শীতল
যুদ্ধের পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে
সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে। বিশেষ করে ইউক্রেন সঙ্কট ও সিরিয়ায়
রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের এ অবনতি। কিন্তু নতুন
করে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে যে
সম্পর্ক গড়ে উঠছে তাতে সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় রচনা হতে পারে বলে মনে
করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পুতিন তো বলেই দিয়েছেন, যদি ট্রাম্প তাকে
আমন্ত্রণ জানান তাহলে তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক শক্তির কথা জানেন। সেটা জেনেই তিনি
বলেছেন, ‘আমরা শুধু বলতে চাই, যে কোনো আগ্রাসীর চেয়ে আমরা বেশি শক্তিশালী’।
এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভ্লাদিমির
পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়ে এসব
কথা বলেছেন। এ সময় তিনি ট্রাম্পের কর্তৃত্ব সিরিয়া সঙ্কট সমাধানের মূল
চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করেছেন। এ বছরের শেষ বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে
ক্রেমলিনের আয়রনম্যান বলে পরিচিত পুতিন ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। নির্বাচনে
তিনি বিজয়ী হওয়ায় ক্রেমলিনের এই শক্তিধর রাজনীতিকের কাছে এক বিস্ময়কর সুযোগ
এসেছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাইছেন। কারণ,
তার দেশ রাশিয়া এখনও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও তেলের নি¤œমূল্যের বিরুদ্ধে লড়াই
করছে। পুতিন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছেন তিনি নির্বাচিত
হলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। এ
পরিস্থিতিকে তিনি আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাবেন না। আমি এ বিষয়ে একমত যে,
আমরা সম্মিলিতভাবে এ অবস্থাকে আরও ভাল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবো।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়া সাইবার হামলা
চালিয়েছে বলে অনেক কর্মকর্তা, রাজনীতিক, গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ। তাতে বলা
হয়েছে, নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করেছে মস্কো। হিলারি ক্লিনটনের ওপর
প্রতিশোধ নিতে সরাসরি এতে যুক্ত ছিলেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ট্রাম্প এ অভিযোগ
বার বার অস্বীকার করেছেন। পুতিনও তার মতো একই কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে টুইট করেছেন। এ
বিষয়ে পুতিন বলেছেন, এটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট
পুতিন তার শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার
নির্দেশ দেয়ার কয়েক ঘন্টা পরে ট্রাম্প ওই টুইট করেন। এ বিষয়ে পুতিনের
প্রতিক্রিয়া, আমাদেরকে কখনোই সশস্ত্র প্রতিযোগিতায় টেনে নেয়া যাবে না।
আমাদের সক্ষমতায় কুলায় না এমন সম্পদের খরচও করা হবে না। তবে যেকোনো
আগ্রাসীর চেয়ে আমরা বেশি শক্তিশালী। ওদিকে সিরিয়ার সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার
বলেছে, তারা আলেপ্পো শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ
শুরুর পর এটাই বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সরকারের সবচেয়ে বড় জয়। এ বিষয়ে
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুকে পুতিন বলেছেন, সিরিয়াকে স্বাভাবিক
পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য উগ্রপন্থিদের কবল থেকে আলেপ্পো মুক্ত করা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আশা করেন, সারা সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে সব
পক্ষই শান্তি আলোচনায় বসবে। এমন শান্তি আলোচনায় বসতে একমত হয়েছেন তুরস্ক,
ইরান ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্টরা। রাশিয়া এ শান্তি আলোচনা প্রস্তাব করেছে
আস্তানার রাজধানী কাজাখে।
>>>মানবাধিকার

No comments:
Post a Comment