তিনটি
কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমার পথচলা শুরু হবে। এরমধ্যে রয়েছে শীতলক্ষ্যা
সেতু, ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং ব্যবস্থা ও অসমাপ্ত কাজ। এছাড়া সুবজ,
পরিচ্ছন্ন নগরায়ন এবং খালগুলো খনন ও জলাশয় রক্ষার মাধ্যমে একটি আধুনিক নগর
হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটিকে গড়ে তোলার মিশন তো আছেই। মোটকথা আমি কাজ করতে
চাই। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে। আগেও বলেছি এখনও বলছি সিটি করপোরেশন
হবে সবার। এখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। বিজয়ী হওয়ার পরদিন শুক্রবার বেলা
সাড়ে ১১টায় দেওভোগের বাড়িতে মানবজমিনের সঙ্গে এসব কথা বলেন ডা. সেলিনা
হায়াৎ আইভী। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী
সাখাওয়াত হোসেনকে ৭৯ হাজার ৫৬৭ ভোটে পরাজিত করে দ্বিতীয়ভাবের মতো
নারায়ণগঞ্জ সিটির নগরমাতা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর গতবারের নির্বাচনে
আওয়াম লীগের শামীম ওসমনাকে ৭৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবারের
মতো দেশের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আইভী।
দ্বিতীয়বারের মতো আবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। প্রথমেই কী করবেন এমন প্রশ্নে আইভী বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর একটা ব্রিজ করতে হবে। এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দা?বি। আমরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সেতুর ড্রয়িং ও ডিজাইনের কাজ সম্পন্ন করেছি। সেটি স্থানীয় সরকারের কাছে জমা দেয়া আছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ব্রিজ নির্মাণে নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি প্রধানমন্ত্রী পূরণ করবেন। দ্বিতীয়ত ময়লা ফেলার কো?নো জায়গা নেই। ডা?ম্পিং স্টেশন করা খুব দরকার। এটা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবো। তবে এই সমস্যাটা শুধু নারায়ণগঞ্জে না, সারাদেশেই রয়েছে। সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলার স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু অর্থের কারণে মানে জমির মূল্যবাবদ অর্থ না দিতে পারায় জমিটি পাইনি। তবে এখন আমরা নতুন পরিকল্পনা ছয় মাসের আগে জমা দিয়েছি। সরকারি প্রক্রিয়ায় সব শেষ করে দ্রুতই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু হবে। এটি হলে ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থায়ী সমাধান হবে। আমাদের দুটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্পট রয়েছে, এর কারণে মানুষের সমস্যা হচ্ছে এটা ঠিক। তবে আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জবাসী এটি মেনে নিয়েছে। কারণ তারা দেখছে আমি রাত-দিন পরিশ্রম করেছি নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক সবুজ শহরে পরিণত করার জন্য। এবং তৃতীয়ত অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করবো। কারণ অনেক কাজ বাকি আছে, সেগুলো সম্পন্ন করব। চলমান কাজগুলো শেষ করাই আমার তিনটি প্রধান কাজের একটি। যেমন নারায়ণগঞ্জ শহরের বুক চিরে বাবুরাইল খাল নামে একটি খাল প্রবহমান আছে। এটা শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীর সঙ্গে যুক্ত। এটাকে সুন্দর করে সাজাতে চাই। ইতিমধ্যে এর জন্য ড্রয়িং হয়ে গেছে, দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। এ খালের উন্নয়নের জন্য আমরা এশিয়া জুরি অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছি। এ কাজটি দ্রুত শেষ করব। এ ছাড়া জিমখানা লেকের উন্নয়নের একটা কাজ চলছে, এটি শেষ করব।
আইভী বলেন, গত নির্বাচনে আমি বলেছিলাম অবৈধ দখলে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করব। এটি কিন্তু আমি করেছি। সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি যাদের দখলে ছিল তা কিন্তু উচ্ছেদ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। এবার আমি আয় বর্ধনে কিছু কাজ করতে চাই, যেখান থেকে আয় আসবে, আর সেই আয় দিয়ে সিটি করপোরেশন চলবে। মোটকথা সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে যতগুলো খাল রয়েছে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে এবার আমার মূল লড়াই। এসব খালের পাশ দিয়ে ওয়াকওয়ে (হাঁটা রাস্তা), গাছ লাগানো, খালের পাশে মানুষের বসার স্থানসহ খালের বিউটিফিকেশন (সৌন্দর্যবর্ধন) করব। ইতিমধ্যে আমরা সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য খুবই ভালোমানের একটি পার্ক তৈরি করেছি। পার্কটি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে। এবার আমরা নিজেরা একটি পার্ক নির্মাণ করতে চাই, যা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আইভী বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের নয়টা ওয়ার্ডের মধ্যে এক নাম্বার ওয়ার্ডটি পিছিয়ে আছে। জাইকার সঙ্গে কথা হয়েছিল। হলি আর্টিজানে হামলার কারণে ওরা একটু ভেঙে পড়েছে। যেভাবেই হোক এই জায়গাটায় নজর দিতে চাই। গত নির্বাচনে বন্দরের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। উন্নয়ন করেছি। এবং আশা করি আপনাদের চোখে পড়েছে।
আইভী বলেন, গতবারের নির্বাচনের সময় আমি বলেছিলাম আমাদের সিটি প্ল্যান নেই, এটা সত্য। সারা দেশের বড় ছোট মাঝারি শহরগুলোর সিটি প্ল্যান নেই। এবার কিন্তু সেই প্ল্যানগুলো করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাপানের সরকারি সাহায্য সংস্থা জাইকা এই সিটি মাস্টারপ্ল্যান করে দিচ্ছে। রাজউকের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি শহরের কোথায় কতটুকু জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে আমরা সেটি কার্যকর করার চেষ্টা করবো।
শেষ পর্যায়ে সিটি করপোরেশনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আইভী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে আমাকে দেখেছেন, এর আগে আট বছর আমাকে পৌরসভায় দেখেছেন, আমি ইমানের সহিত দায়িত্ব পালন করেছি। আমি আমার কাজটাকে ইবাদত মনে করেছি। কখনো মিথ্যা বলিনি। আমার সরকার ক্ষমতায় ছিল, বিগত আট বছর ক্ষমতায় আছে, এরপরও প্রচ- প্রতিকূলতার সঙ্গে আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য কাজ করেছি। প্রতিকূলতার মাঝেও আমি জনগণের কাছাকাছি পৌঁছার চেষ্টা করেছি, তাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। এবারো আমার সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জনগণ যেন আমার এই চেষ্টাকে মূল্যায়ন করে। আমাকে বিজয়ী করে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মান রেখেছেন এজন্য তাদের আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বিগত দিনে তারা যেভাবে আমার পাশে থেকে আমাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে আমার বিশ^াস আগামী পাঁচ বছরও তারা আমার পাশে থাকবে। আমিও নগরবাসীর সঙ্গে আছি, থাকবো। আর আমি আমার আগের অবস্থান থেকে নড়িনি, নড়বোও না।
দ্বিতীয়বারের মতো আবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। প্রথমেই কী করবেন এমন প্রশ্নে আইভী বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর একটা ব্রিজ করতে হবে। এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দা?বি। আমরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সেতুর ড্রয়িং ও ডিজাইনের কাজ সম্পন্ন করেছি। সেটি স্থানীয় সরকারের কাছে জমা দেয়া আছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ব্রিজ নির্মাণে নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি প্রধানমন্ত্রী পূরণ করবেন। দ্বিতীয়ত ময়লা ফেলার কো?নো জায়গা নেই। ডা?ম্পিং স্টেশন করা খুব দরকার। এটা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবো। তবে এই সমস্যাটা শুধু নারায়ণগঞ্জে না, সারাদেশেই রয়েছে। সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলার স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু অর্থের কারণে মানে জমির মূল্যবাবদ অর্থ না দিতে পারায় জমিটি পাইনি। তবে এখন আমরা নতুন পরিকল্পনা ছয় মাসের আগে জমা দিয়েছি। সরকারি প্রক্রিয়ায় সব শেষ করে দ্রুতই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু হবে। এটি হলে ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থায়ী সমাধান হবে। আমাদের দুটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্পট রয়েছে, এর কারণে মানুষের সমস্যা হচ্ছে এটা ঠিক। তবে আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জবাসী এটি মেনে নিয়েছে। কারণ তারা দেখছে আমি রাত-দিন পরিশ্রম করেছি নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক সবুজ শহরে পরিণত করার জন্য। এবং তৃতীয়ত অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করবো। কারণ অনেক কাজ বাকি আছে, সেগুলো সম্পন্ন করব। চলমান কাজগুলো শেষ করাই আমার তিনটি প্রধান কাজের একটি। যেমন নারায়ণগঞ্জ শহরের বুক চিরে বাবুরাইল খাল নামে একটি খাল প্রবহমান আছে। এটা শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীর সঙ্গে যুক্ত। এটাকে সুন্দর করে সাজাতে চাই। ইতিমধ্যে এর জন্য ড্রয়িং হয়ে গেছে, দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। এ খালের উন্নয়নের জন্য আমরা এশিয়া জুরি অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছি। এ কাজটি দ্রুত শেষ করব। এ ছাড়া জিমখানা লেকের উন্নয়নের একটা কাজ চলছে, এটি শেষ করব।
আইভী বলেন, গত নির্বাচনে আমি বলেছিলাম অবৈধ দখলে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করব। এটি কিন্তু আমি করেছি। সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি যাদের দখলে ছিল তা কিন্তু উচ্ছেদ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। এবার আমি আয় বর্ধনে কিছু কাজ করতে চাই, যেখান থেকে আয় আসবে, আর সেই আয় দিয়ে সিটি করপোরেশন চলবে। মোটকথা সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে যতগুলো খাল রয়েছে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে এবার আমার মূল লড়াই। এসব খালের পাশ দিয়ে ওয়াকওয়ে (হাঁটা রাস্তা), গাছ লাগানো, খালের পাশে মানুষের বসার স্থানসহ খালের বিউটিফিকেশন (সৌন্দর্যবর্ধন) করব। ইতিমধ্যে আমরা সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য খুবই ভালোমানের একটি পার্ক তৈরি করেছি। পার্কটি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে। এবার আমরা নিজেরা একটি পার্ক নির্মাণ করতে চাই, যা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আইভী বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের নয়টা ওয়ার্ডের মধ্যে এক নাম্বার ওয়ার্ডটি পিছিয়ে আছে। জাইকার সঙ্গে কথা হয়েছিল। হলি আর্টিজানে হামলার কারণে ওরা একটু ভেঙে পড়েছে। যেভাবেই হোক এই জায়গাটায় নজর দিতে চাই। গত নির্বাচনে বন্দরের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। উন্নয়ন করেছি। এবং আশা করি আপনাদের চোখে পড়েছে।
আইভী বলেন, গতবারের নির্বাচনের সময় আমি বলেছিলাম আমাদের সিটি প্ল্যান নেই, এটা সত্য। সারা দেশের বড় ছোট মাঝারি শহরগুলোর সিটি প্ল্যান নেই। এবার কিন্তু সেই প্ল্যানগুলো করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাপানের সরকারি সাহায্য সংস্থা জাইকা এই সিটি মাস্টারপ্ল্যান করে দিচ্ছে। রাজউকের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি শহরের কোথায় কতটুকু জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে আমরা সেটি কার্যকর করার চেষ্টা করবো।
শেষ পর্যায়ে সিটি করপোরেশনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আইভী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে আমাকে দেখেছেন, এর আগে আট বছর আমাকে পৌরসভায় দেখেছেন, আমি ইমানের সহিত দায়িত্ব পালন করেছি। আমি আমার কাজটাকে ইবাদত মনে করেছি। কখনো মিথ্যা বলিনি। আমার সরকার ক্ষমতায় ছিল, বিগত আট বছর ক্ষমতায় আছে, এরপরও প্রচ- প্রতিকূলতার সঙ্গে আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য কাজ করেছি। প্রতিকূলতার মাঝেও আমি জনগণের কাছাকাছি পৌঁছার চেষ্টা করেছি, তাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। এবারো আমার সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জনগণ যেন আমার এই চেষ্টাকে মূল্যায়ন করে। আমাকে বিজয়ী করে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মান রেখেছেন এজন্য তাদের আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বিগত দিনে তারা যেভাবে আমার পাশে থেকে আমাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে আমার বিশ^াস আগামী পাঁচ বছরও তারা আমার পাশে থাকবে। আমিও নগরবাসীর সঙ্গে আছি, থাকবো। আর আমি আমার আগের অবস্থান থেকে নড়িনি, নড়বোও না।
>>>মানবজমিন

No comments:
Post a Comment