খুলনার
পাইকগাছায় পরাজিত সদস্য প্রার্থী যুবলীগ নেতা ভোটারদের কাছ থেকে তার দেয়া
নগদ টাকা ও ডিনার সেট ফেরত নিচ্ছেন। টাকা-উপঢৌকন নিয়েও তাকে ভোট দেয়া হয়নি
বলে তিনি দাবি করেন।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত
করেছেন সংরক্ষিত আসনের এক প্রার্থী। বরিশালেও ভোটের জন্য দেয়া টাকা আদায়ে
মাঠে নেমেছেন পরাজিত প্রার্থীরা। বিস্তারিত যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের
পাঠানো খবরে-
পাইকগাছা (খুলনা) : ১১নং ওয়ার্ডে কোনো ভোট না পাওয়া সাধারণ সদস্য প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ সভাপতির ভোটের জন্য দেয়া অর্থ ও উপঢৌকন ফেরত নেয়া হচ্ছে। যুবলীগ নেতা এসএম সামছুর রহমান বলেন, আমার প্রস্তাবক-সমর্থকসহ ১৫ নারী ও ২০ পুরুষ ভোটার প্রত্যেকে ১৫-২০ হাজার নগদ টাকা ও ২ হাজার টাকার ২০টি ডিনার সেট নেন। ভোটের দিন দুপুরে ২৯ জন ভোটার ও তার লোকেরা হোটেলে ২৭ হাজার টাকার খাবারও খান। তবে তার তালা প্রতীকে কোনো ভোট না পড়ায় এরই মধ্যে দেড় লাখ টাকা ও ১০টি ডিনার সেট ফেরত পেয়েছেন। যদিও ভোটাররা অনেকেই বিষয়টি অস্বীকার করেন।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : উপজেলায় মোট ভোটার ৯১ জন। এসব ভোটারের অধিকাংশই চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যদের কাছ থেকে একাধিকবার ভোট দেয়ার প্রতিশ্র“তিতে হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছেন। কিন্তু ভোটের পরে অধিকাংশ প্রার্থী দেখতে পান তাদের ঝুলিতে ভোট পড়েনি। পরাজিত এসব সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে এখন টাকা ফেরত নিতে অভিযানে নেমেছেন। শুক্রবার এ অভিযানে নামেন কয়েকজন। অনেকে টাকা হজম করতে না পেরে ফেরতও দিয়েছেন। একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেয়া বাঁকা ইউপির এক সদস্য টাকা ফেরত দেয়ার ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন। অপরদিকে সংরক্ষিত সদস্য পদের পরাজিত প্রার্থী ফারহানা আক্তার রিনি ভোট না দেয়ায় এদিন সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীনকে লাঞ্ছিত করে টাকা ফেরত চান।
পাইকগাছা (খুলনা) : ১১নং ওয়ার্ডে কোনো ভোট না পাওয়া সাধারণ সদস্য প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ সভাপতির ভোটের জন্য দেয়া অর্থ ও উপঢৌকন ফেরত নেয়া হচ্ছে। যুবলীগ নেতা এসএম সামছুর রহমান বলেন, আমার প্রস্তাবক-সমর্থকসহ ১৫ নারী ও ২০ পুরুষ ভোটার প্রত্যেকে ১৫-২০ হাজার নগদ টাকা ও ২ হাজার টাকার ২০টি ডিনার সেট নেন। ভোটের দিন দুপুরে ২৯ জন ভোটার ও তার লোকেরা হোটেলে ২৭ হাজার টাকার খাবারও খান। তবে তার তালা প্রতীকে কোনো ভোট না পড়ায় এরই মধ্যে দেড় লাখ টাকা ও ১০টি ডিনার সেট ফেরত পেয়েছেন। যদিও ভোটাররা অনেকেই বিষয়টি অস্বীকার করেন।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : উপজেলায় মোট ভোটার ৯১ জন। এসব ভোটারের অধিকাংশই চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যদের কাছ থেকে একাধিকবার ভোট দেয়ার প্রতিশ্র“তিতে হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছেন। কিন্তু ভোটের পরে অধিকাংশ প্রার্থী দেখতে পান তাদের ঝুলিতে ভোট পড়েনি। পরাজিত এসব সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে এখন টাকা ফেরত নিতে অভিযানে নেমেছেন। শুক্রবার এ অভিযানে নামেন কয়েকজন। অনেকে টাকা হজম করতে না পেরে ফেরতও দিয়েছেন। একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেয়া বাঁকা ইউপির এক সদস্য টাকা ফেরত দেয়ার ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন। অপরদিকে সংরক্ষিত সদস্য পদের পরাজিত প্রার্থী ফারহানা আক্তার রিনি ভোট না দেয়ায় এদিন সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীনকে লাঞ্ছিত করে টাকা ফেরত চান।
ফারহানা
এদিন আরও কয়েকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া এক
চেয়ারম্যান প্রার্থী দিয়েছিলেন জুতা-স্যান্ডেল ও চাদর। তিনি এ উপজেলায়
পেয়েছেন মাত্র এক ভোট। এখন জুতা-স্যান্ডেল ও চাদর ফেরত চাওয়া হচ্ছে। পরাজিত
প্রার্থীদের টাকা ও মালামাল আদায়ের এ ঘটনা শুক্রবার জীবননগরে টক অব দ্য
টাউনে পরিণত হয়। লাঞ্ছিত করার ব্যাপারটি স্বীকার করে ফারহানা আক্তার রিনি
দাবি করেন, ভোট দেয়ার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান আমার কাছ থেকে টাকা নেন।
কিন্তু ভোট দেননি। টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান
বলেন, আমরা একই দলের সমর্থন করি, সেক্ষেত্রে ফারহানার বিশ্বাস ছিল সে
আমাদের সবার ভোট পাবে। কিন্তু সে ভোট না পাওয়ায় আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। আমি এ
ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
বরিশাল ও স্বরূপকাঠি : পরাজিত স্বরূপকাঠির বেশ ক’জন প্রার্থী ভোটের আগে ভোটারদের দেয়া টাকা আদায় করতে মাঠে নেমেছেন। এদের মধ্যে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান এ পর্যন্ত ৯ ভোটারের কাছ (ইউপি সদস্য) থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আদায় করেছেন। বৃহস্পতিবার উপজেলার সমদেয়কাঠি ইউনিয়নের ৭ জন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে তিনি দুই লাখ টাকা আদায় করেন। শুক্রবার গুয়ারেখা গ্রামের ইউপি সদস্য সত্যরঞ্জন মৃধাকে দেয়া ১৫ হাজার টাকা আদায় করেন আখতার। আখতার যুগান্তরকে জানান, ‘সারেংকাঠি ইউপির দুই সদস্য টাকা ফেরত দিলেও দুলাল ও কবির নামে দুই সদস্য এখনও টাকা ফেরত দেননি। ভোট দেয়ার কথা বলে এরাও টাকা নেন।’ টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে সত্যরঞ্জন মৃধা বলেন, আমি টাকা রাখতে রাজি ছিলাম না।
বরিশাল ও স্বরূপকাঠি : পরাজিত স্বরূপকাঠির বেশ ক’জন প্রার্থী ভোটের আগে ভোটারদের দেয়া টাকা আদায় করতে মাঠে নেমেছেন। এদের মধ্যে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান এ পর্যন্ত ৯ ভোটারের কাছ (ইউপি সদস্য) থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আদায় করেছেন। বৃহস্পতিবার উপজেলার সমদেয়কাঠি ইউনিয়নের ৭ জন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে তিনি দুই লাখ টাকা আদায় করেন। শুক্রবার গুয়ারেখা গ্রামের ইউপি সদস্য সত্যরঞ্জন মৃধাকে দেয়া ১৫ হাজার টাকা আদায় করেন আখতার। আখতার যুগান্তরকে জানান, ‘সারেংকাঠি ইউপির দুই সদস্য টাকা ফেরত দিলেও দুলাল ও কবির নামে দুই সদস্য এখনও টাকা ফেরত দেননি। ভোট দেয়ার কথা বলে এরাও টাকা নেন।’ টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে সত্যরঞ্জন মৃধা বলেন, আমি টাকা রাখতে রাজি ছিলাম না।
তবুও প্রার্থী আখতার জোর করে
আমার ঘরে টাকা রেখে যান। সত্যরঞ্জনের দাবি- তিনি আখতারকে ভোট দিয়েছেন।
সংরক্ষিত আসনের সদস্য প্রার্থী শান্তা রানী সুতারের স্বামী হুলারহাটের
নিমাই দাস তার স্ত্রীর ভোটের জন্য দেয়া প্রায় ৬ লাখ টাকা আদায়ের আলটিমেটাম
দিয়ে বিভিন্ন জনকে ফোন দিচ্ছেন। যুগান্তরকে নিমাই দাস বলেন, ‘সমদেয়কাঠি
ইউপির ১১ জন সদস্য এক টেবিলে বসে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন।
এছাড়া আটঘর কুড়িয়ানা ইউপির সদস্যরা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাদের কাছ থেকে
৬৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। তারা ভোট দেয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের টাকা
হাতিয়ে নেন।’ প্রার্থী শান্তা রানী বলেন, ‘কে ভোট দিয়েছে আর কে দেয়নি তা
তাদের আচরণেই বোঝা যায়। যারা টাকা নিয়েও ভোট দেয়নি তারা টাকা ফেরত দেবে
এটাই স্বাভাবিক।’

No comments:
Post a Comment