রাজধানীর
দক্ষিণখান থানার পূর্ব আশকোনায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালানো বাড়ি
'সূর্য ভিলা'র মালিক কুয়েক প্রবাসী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের। তার মেয়ে
জোনাকি সাংবাদিকদের বলেন, ছয় মাস আগে অনলাইন ব্যবসার কথা বলে বাড়িটি ভাড়া
নেয়া হয়। জোনাকি জানান, দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবার বাড়ির কাছেই
আরেকটি বাড়িতে থাকেন তিনি।
তিনি বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর মো. ইমতিয়াজ আহমেদ
পরিচয় দিয়ে বাড়িটির নিচতলা ভাড়া নেন। তখন ওই ব্যক্তি নিজেকে অনলাইন
ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। বাসায় তিনি, তার স্ত্রী ও এক বাচ্চা থাকবে বলে
জানান। জোনাকি বলেন, ১০ হাজার টাকায় বাসাটি ভাড়া নেন ইমতিয়াজ। পরে ৩
সেপ্টেম্বর পরিবার নিয়ে তিনি সেখানে ওঠেন। বাড়িওয়ালার মেয়ে দাবি করেন, ভাড়া
দেয়ার পর তিনি বেশ কয়েকবার ওই বাসায় গেছেন। সেখানে ল্যাপটপ, খাট, ড্রেসিং
টেবিল, ফ্রিজ দেখেছেন। তবে ভাড়াটিয়ারা কখনও বাইরে বের হতেন না। ৪০ দিন বয়সী
ছেলেকে হিজড়রা হয়রানি করবে বলে তারা বের হতেন না বলে জানিয়েছিলেন। বাসা
ভাড়া নেয়ার সময় পরিবারটি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিয়েছে,
ভাড়াটে-সংক্রান্ত ফরম পূরণ করেছে এবং সে ফরম থানায় জমা দেয়া হয়েছে বলেও
জানান জোনাকি রাসেল। পুলিশের অভিযান বিষয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার
পুলিশ তার বাবার বাড়িতে নক করে। তার মা নিচে নেমে যান। তখন পুলিশ তার কাছে
নিচতলার ভাড়াটে সম্পর্কে জানতে চায়। তখন তিনি পুলিশকে বলেন, তার বড় মেয়ে
(জোনাকি রাসেল) সব জানেন।
তখন তার মা পুলিশকে নিয়ে তার বাসায় যান। তখন
তিনি ভাড়াটেদের কাছ থেকে নেয়া সব কাগজপত্র পুলিশকে দেন। এরপর পুলিশ চলে
যায়। এর আগে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে রাজধানীর আশকোনায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে
পূর্ব আশকোনা হাজিক্যাম্পের কাছে 'সূর্য ভিলা' নামের তিনতলা একটি বাড়ি
ঘিরে রাখে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটি)। এক পর্যায়ে শনিবার সকাল
সাড়ে ৯টার দিকে সেখান থেকে চারজন আত্মসমর্পণ করেন। তারা হলেন, মিরপুরের
রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি ও সাবেক মেজর জাহিদের স্ত্রী
জেবুন্নাহার শীলা ও তার মেয়ে এবং পলাতক জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা ও তার
মেয়ে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ডিএমপি কমিশনার
মো. আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের জানান, বাড়ি থেকে চারজন আত্মসমর্পণ
করেছে। আর ভেতরে আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত জঙ্গিদের অর্থদাতা
তানভীর কাদেরীর ছেলে আবীরসহ তিনজন অবস্থান করছে।

No comments:
Post a Comment