প্রধান
বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে)
সিনহা বলেছেন, 'বিচারপতি নিয়োগে আইন হবে। আমিও চাই এটা হোক। তবে এর জন্য
কিছুটা সময় প্রয়োজন।' ঐক্য, উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মাতৃভাষা ও
দেশীয় সাংস্কৃতির গুরুত্ব শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। দেশীয়
সাংস্কৃতিক পরিষদ বুধবার সন্ধ্যায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ
আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা
নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইনজীবীরা।
এই সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, 'হ্যাঁ, আমিও চাই বিচারপতি নিয়োগের
ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা। এখন বিচারকের অনেক স্বল্পতা। আইন করার জন্য এখনই যদি
নিয়োগ বন্ধ করে দিই, তাহলে বিচার ব্যবস্থা স্থবির হয়ে যাবে। আপাতত চালিয়ে
যাবো।' তিনি আরও বলেন, 'এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে কথা
হয়েছে। আইনমন্ত্রীই প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন যে বিচারক নিয়োগে আইন করা যায় কি
না? আমি উনাকে অভিনন্দন জানাই। আমি নিজেও চাই এটা হোক।' এস কে সিনহা
বলেন, 'এ আইনে আইনজীবী প্রতিনিধি থাকবেন, বিচারকরা থাকবেন- যেমন ইংল্যান্ডে
আছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও এরকম আছে। আমিও সেরকম প্রত্যাশা করি। তবে এতে
কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।'অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, 'দেশীয় সংস্কৃতি ও
মাতৃভাষায় প্রতিনিয়ত আঘাত আসছে। যতদিন যাচ্ছে এ আঘাত তত বাড়ছে। কিছু
উচ্চবিত্ত যারা তারা তাদের ছেলে মেয়েদের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে দিচ্ছেন, আদৌ
সেটার দরকার আছে কি না?
আমি যদি ভালো বাংলা জানি, তাহলে ইংরেজি ভাষা
সমস্যা হবে না- এটা উদাহরণসহ দেখাতে পারি।' বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,
শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও কবি আব্দুল হাই'র
উদাহরণ তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাদের লেখা ইংরেজি যদি বিশ্লেষণ করে
দেখি- যারা ইংরেজিতে পড়ালেখা করেছেন তাদের চেয়েও অনেক ভালো। উচ্চ আদালতের
সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন করা যাচ্ছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
'আমরা বাংলায় রায় লিখতে পারি না। এই সংগঠনের গত অনুষ্ঠানে আমি কথা
দিয়েছিলাম আমরা বাংলা চর্চা করবো। কিন্তু আমি দুঃখিত, সেটা পারিনি।' 'কারণ
আমাদের এতে সমস্যা হয়। কোর্টে যতগুলো মামলা নিষ্পত্তি হয়, যতগুলো
ডিকটেশন দিই তা যদি বাংলায় লিখতে যায়, সেই সময় দেয়া সম্ভব না। আমাদের
প্রযুক্তিও তত উন্নত হয়নি। আরও বিভিন্ন কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে না' যোগ করেন
এস কে সিনহা। তিনি বলেন, 'এ তবে আমি খুব খুশী যে আমাদের হাইকোর্টের বেশ
কিছু বিচারক খুব সুন্দর করে বাংলায় রায় দিচ্ছেন।'
দেশীয় সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি গৌরঙ্গ চন্দ্র করের সভাপতিত্বে আলোচনা
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস
চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মজুমদার, আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইউসুফ হোসেন
হুমায়ূন, সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ। অনুষ্ঠান
পরিচালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস এম গোলাম মোস্তফা তারা।

No comments:
Post a Comment