Thursday, December 15, 2016

আনোয়ার ইব্রাহিমের সাজা বহাল

মালয়েশিয়ার কারাবন্দি বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম তার মুক্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত লড়াইয়ে হেরে গেছেন। বুধবার দেশটির আপিল আদালত সমকামিতার অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আনোয়ারের করা আপিল খারিজ করে দেন। ২০১৪ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে দেয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে রিভিউ চেয়ে করা আবেদনের কোনো ভিত্তি নেই বলে দেশটির প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গড়া পাঁচ সদস্যের বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে রায় দেন। মুক্তি পেতে এটাই ছিল আনোয়ারের সামনে চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া। আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় তাকে আরও ১৬ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে। এই রায়ের অর্থ হচ্ছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে আনোয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। আনোয়ার নেতৃত্বে থাকলে ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের জয়ের প্রবল সম্ভাবনা ছিল। রায়ের পর আনোয়ার আদালতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটাই পথের শেষ নয়। আমি শপথ করে নিজেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছি। কিন্তু বিচারকরা আমার আবেদনকে উপেক্ষা করেছেন। মুক্তির পথে এ হল দীর্ঘ পদযাত্রা।’ আদালতে রায় ঘোষণার সময় আনোয়ারের স্ত্রী, সন্তান এবং নাতি-নাতনিরাও ছিলেন।
আর ৬৯ বছর বয়সী এই নেতার সমর্থনে বাইরে জড়ো হয়েছিলেন অনেক সমর্থক। প্রায় চার বছর আগে মালয়েশিয়ার আদালত আনোয়ারের মুক্তির রায় খারিজ করে সমকামিতার অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। আনোয়ারের সমর্থকরাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি মানবাধিকার গোষ্ঠী এ রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়ার চেষ্টা বলে সমালোচনা করেছে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে আনোয়ার শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। আনোয়ার বরাবরই তার বিরুদ্ধে সমকামের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। মালয়েশিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার এর আগে সমকামিতা এবং দুর্নীতির অভিযোগে ৬ বছরের কারাদণ্ড পান। তবে উচ্চ আদালত সে সাজা বাতিল করে দেন। মালয়েশিয়ায় গণতন্ত্র দিন দিনই সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, আদালতের এ সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ায় ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সত্যিকারের ট্রাজেডি। আনোয়ারের বিরুদ্ধে নাজিব রাজাকের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সমার্থক হচ্ছে এই রায়। এএফপি, দা গার্ডিয়ান।

No comments:

Post a Comment