Thursday, December 15, 2016

আলেপ্পো এখন সিরীয় বাহিনীর দখলে

অবশেষে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে দেশটির অবরুদ্ধ শহর আলেপ্পো। পতন হয়েছে যুদ্ধরত বিদ্রোহীদের। চার বছরের অধিক সময় ধরে গৃহযুদ্ধের পর সিরীয় বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের এক সমঝোতা হয়। সে অনুযায়ী বিদ্রোহীদের আলেপ্পো ছেড়ে চলে যেতে হবে। মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে আলেপ্পোয় সিরীয় সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। খবর এএফপি ও বিবিসির। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতাইল চুরকিন জানান, আলেপ্পোয় সামরিক অভিযান শেষ। পুরো শহরের দখল এখন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সেনাবাহিনীর হাতে চলে এসেছে। আটকে থাকা সাধারণ নাগরিক ও বিদ্রোহীরা এবার নিরাপদে সরে যেতে পারবেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা অনুযায়ী প্রথমে সাধারণ নাগরিকরা চলে যাবেন। তারপরে যেসব বিদ্রোহী এখনও রয়ে গেছেন তাদের চলে যেতে দেয়া হবে। নাগরিক ও বিদ্রোহীদের পশ্চিম আলেপ্পো বা ইদলিবে নিয়ে যাওয়া হবে। বিদ্রোহীদের তরফ থেকেও সমঝোতার কথা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। তবে আলেপ্পো খালি করার নির্ধারিত সময় শুরু হওয়ার দু’ঘণ্টা পরও সেখান থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। রুশ সহায়তায় আসাদ বাহিনীর লাগাতার হামলার সামনে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল বিদ্রোহীদের। প্রায় ৯০ শতাংশ আলেপ্পো আসাদের সেনার হাতে চলে এসেছিল। আলেপ্পো শহরের পূর্ব দিকে কয়েকটি জায়গায় মাত্র বিদ্রোহীরা লড়াই চালাচ্ছিল। শুরু হয়েছিল গণহত্যাও। অভিযোগ উঠেছে, অন্তত ৮২ জনকে দেখা মাত্র হত্যা করেছে সিরীয় বাহিনী। আরও বড় গণহত্যার আশংকা করছিলেন অনেকে। বিদ্রোহী সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির সাংবাদিক জানান, চুক্তিমতো আলেপ্পো থেকে তাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে না। জানা গেছে, বিদ্রোহী যোদ্ধা ও তাদের সমর্থক বেসামরিক লোকদের স্থানান্তরে দেরি হবে।
কত দেরি হবে, তাও নিশ্চিত নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলেপ্পোয় তাদের যেসব সেনা ও বেসামরিক লোক আহত হয়েছে, আগে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের স্থানান্তর করা হবে। তবে বিদ্রোহীদের দাবি, তাদের পক্ষে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করা খুব বেশি দেরি হয়ে যাবে। প্রতি মুহূর্তে তারা জীবন যাওয়ার আতংকে রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা দেরি হচ্ছে। আটকে রাখার জন্য বিদ্রোহীরা দায়ী করছে ইরান ও শিয়া মিলিশিয়াদের। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে দেশটিতে লড়ছে শিয়ারা। ২০১২ সাল থেকে পূর্ব আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বিদ্রোহীরা। সিরিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন এ শহরে গত চার বছরের যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে, উদ্বাস্তু হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। আলেপ্পোর একাংশ এতদিন জঙ্গিদের দখলে থাকায় সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় যে দোদুল্যমনতা ছিল তারও অবসান হয়েছে বলে জানান রুশ রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন। তিনি বলেন, এখন একটি নিশ্চিত অবস্থান থেকে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার সময় এসেছে। সিরিয়াবিষয়ক আলোচনা আবার শুরু করার এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, যেকোনো ধরনের শান্তি আলোচনা ও সমঝোতার প্রতি তার সংস্থার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি পূর্ব আলেপ্পোয় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। বান কি মুন বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষার প্রতি সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে যারা আটক হয়েছে কিংবা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের সঙ্গেও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সদয় আচরণ করতে হবে।

No comments:

Post a Comment