‘এক
চীন নীতি’ নিয়ে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
বক্তব্যে গভীর উদ্বেগে প্রকাশ করেছে বেইজিং। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
মুখপাত্র জেং সুয়াং জানান, ‘এক চীন নীতি’ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি। চার
দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনের ‘এক চীন নীতিতে’ সমর্থন দিয়ে আসছে
যুক্তরাষ্ট্র। তবে রোববার সেই সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড
ট্রাম্প। খবর গার্ডিয়ান, এএফপি ও সিএনএনের। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে
দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, চীনের এক চীন নীতিতে সমর্থন দেয়ার
পেছনে তিনি কোনো যুক্তি খুঁজে পান না। তার প্রশাসনের সঙ্গে বেইজিং নতুন করে
‘চুক্তি’ না করলে তিনি এক চীন নীতি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত
দেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
মুখপাত্র বলেন, ‘এক চীন নীতি’ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভিত্তি। এ ভিত্তি
যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সুসম্পর্ক ছিল, তা
থাকবে না; যেটা অকল্পনীয়। তাই তাইওয়ান বিষয়টি নিয়ে আসন্ন মার্কিন প্রশাসনকে
ভাবতে হবে। জেং সুয়াং আরও বলেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্নে স্পর্শকাতরতাকে উপলব্ধি
করতে আসন্ন মার্কিন প্রশাসন এবং এর নেতাদের আমরা আহ্বান জানাই। দুই দেশের
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য তাইওয়ান সম্পর্কিত
ব্যাপারগুলো আরও বিচক্ষণভাবে দেখার জন্যও তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান।’ এক
চীন নীতি নিয়ে ট্রাম্প তার বক্তব্য থেকে সরে এলেই শুধু চীন-মার্কিন
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দেশ দুটির সম্পর্কোন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে
জানান তিনি। এক চীন নীতির আলোকে তাইয়ানকে নিজের অংশ বলে মনে করে চীন।
যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দেয় না।
তাইওয়ানের ব্যাপারে চীনের এ অবস্থানকে ১৯৭৯ সাল থেকে সম্মান জানিয়ে আসছে
মার্কিন প্রশাসন। রোববারের ওই সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,
‘বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়ে আমাদের সঙ্গে তারা যদি কোনো চুক্তি না করে তাহলে
আমি বুঝি না কেন এক চীন নীতিতে আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।’ মুদ্রা
সংক্রান্ত বিষয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে না বলেও মন্তব্য করেন
তিনি। এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর চার দশকের রীতি ভেঙে
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প।
এরপর
থেকেই মার্কিন-চীন সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন দেখা যায়। চীনের সমালোচনার বিষয়ে
ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, এক চীন নীতি মানতে যুক্তরাষ্ট্রের
বাধ্য থাকা উচিত নয়। তিনি তাইওয়ানের কোনো নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন কিনা,
তাও চীন ঠিক করে দিতে পারে না। চীনের কাছ থেকে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক ছাড়
না পেলে এ নীতির গ্রহণযোগ্যতা নেই। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না; চীন আমাকে
আদেশ করুক। এ কলটা আমাকে করা হয়েছিল। এটা ছিল বেশ চমৎকার একটা সংক্ষিপ্ত
কল। অন্য কিছু দেশ এটা কীভাবে বলতে পারে যে, আমি একটি কল রিসিভ করতে পারি
না? আমার কাছে মনে হয়েছে যে, এটা খুবই অসম্মানজনক।’ এদিকে নবনির্বাচিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শিশুর মতো অজ্ঞ’ বলে মন্তব্য করেছে
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এক চীন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের প্রশ্ন তোলার পর
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তাকে হুশিয়ারি করে চীনা পত্রিকা। সোমবার দেশটির
ক্ষমতাসীন দলের মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়,
পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে ট্রাম্প একেবারে শিশুর মতো অজ্ঞ। এক চীন নীতি
কেনাও যায় না, বিক্রিও হয় না। ট্রাম্প ব্যবসা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তাই
সবকিছু দাম দিয়ে কিনতে চান। তিনি যদি যথেষ্ট শক্তিশালী হন, তবে বেচাকেনা
নয়, শক্তি প্রয়োগ করে নিতে হবে।’ তাইওয়ান প্রশ্নে চীন কোনো আপসে যাবে না
বলেও হুশিয়ারি দেয় পত্রিকাটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, তিন কারণে এক চীন নীতি
সমর্থন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমত, বেইজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায়
রাখা। দ্বিতীয়ত, তাইওয়ানকে রক্ষা ও সহযোগিতা করে গণতন্ত্রের পথ রক্ষা এবং
তৃতীয়ত, চীনের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা। ১৯৭২ সালে মাও-রিগ্যান
সমঝোতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ৪৪ বছরে এক চীন নীতি সমর্থন করে আসছে মার্কিন
কর্তৃপক্ষ।

No comments:
Post a Comment