Wednesday, December 21, 2016

আংকারা-মস্কো সম্পর্কে কী প্রভাব পড়তে পারে

 তুরস্ক ও রাশিয়ার সম্পর্কে রোলার কোস্টার ওঠা-নামার এক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নিয়েছিল। সেই ঘনিষ্ঠতা সিরিয়ার যুদ্ধ বন্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকট নিরসনের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিল। সোমবার এক মর্মান্তিক ঘটনায় এতে কালো ছায়া পড়েছে। তুরস্কের বিশ্রামে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে সে দেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কারলভ নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এ ঘটনাকে ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়ার আর্কডিউক ফ্রানজ ফার্ডিনান্ডের গুপ্তহত্যার সঙ্গে তুলনা করছেন, যার মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কারলভ হত্যার ঘটনায় তুর্কি-রুশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং আরও মজবুত হবে। মঙ্গলবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত হত্যার এ ঘটনায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাদের কৌশলগত শত্রুকে দোষারোপ করার একইরকম ভিত্তিতে উপনীত হবেন। কিছুদিন আগে আংকারা ও ক্রেমলিন ঘোষণা দিয়েছে সিরিয়ার সংঘাত বন্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে তুরস্ক, রাশিয়া এবং ইরানের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা মস্কোয় জড়ো হতে যাচ্ছেন। সেখানে ত্রিপক্ষীয় মিত্রশক্তির সমাধান খোঁজা হবে। রুশ রাষ্ট্রদূত হত্যাকাণ্ডের পর তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করেন এবং ঘোষণা দেন, সন্ত্রাসবিরোধী তাদের সম্মিলিত যুদ্ধে সহযোগিতা ও সংহতি আরও জোরদার হবে। তুর্কি বিশ্লেষক মোস্তাফা আকিউলের মতে, এরদোগান ও পুতিন তাদের ধারণাপ্রসূত আঙ্গুল তোলার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘উভয়পক্ষই বিশ্বাস করেন তাদের নিজেদের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টির জন্য পশ্চিমা ষড়যন্ত্রে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’ কূটনৈতিক বিশ্লেকরা বলছেন, সিরিয়া ইস্যুতে মস্কো ও আংকারা যে চুক্তিতে উপনীত হয়েছে, তা বাতিল করার ইচ্ছা কোনো পক্ষেরই নেই। তুরস্ক নিশ্চিত করেছে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আংকারার অভিযান রুশ সহায়তায় আসাদ বাহিনীর আলেপ্পো দখলে পুনরুদ্ধারে বাধা হয়নি। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আল বাব দখলে তুরস্ককে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মার্কিন থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো আরোন স্টেইন বলেন, ‘সিরিয়ায় দুই দেশের স্বার্থেই এ সংকটকে তারা সহজেই মানিয়ে নিয়েছে। এতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বরং আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হবে।’ তার মতে, তুরস্কের ওপর রাশিয়ার হাত সবসময় লম্বা ছিল এখন সেটা আরও মজবুত হয়েছে। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিম বলেছেন, রাষ্ট্রদূত হত্যার পেছনে ‘কালো শক্তির হাত’ রয়েছে। অন্যদিকে রুশ সিনেটর ফ্রানৎজ ক্লিনজেভিক বলেন, এ ঘটনায় ন্যাটোর সিক্রেট সার্ভিস জড়িত থাকার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। জুলাই মাসে তুরস্কে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তুর্কি নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করেছিলেন এরদোগান। গুলেনকে ফেরত না দেয়ায় তুর্কি-মার্কিন সম্পর্কেও শীতলতা দেখা দিয়েছে। এখন কারলভ হত্যার ঘটনায় উভয়পক্ষের এ পশ্চিমা দোষারোপের কারণে গত বছরের নভেম্বরে সিরীয় সীমান্তে তুর্কি বাহিনীর রুশ বিমান ভূপাতিতের মতো তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। 

No comments:

Post a Comment